ছোট অনলাইন শপে পিওএস সফটওয়্যার বনাম Excel: সিদ্ধান্ত নেবেন যেভাবে
শিরোনাম: বাংলাদেশের ছোট অনলাইন শপের জন্য পিওএস সফটওয়্যার নাকি Excel: কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন
মেটা বিবরণ: বাংলাদেশের ছোট অনলাইন শপের জন্য পিওএস সফটওয়্যার ও Excel-এর তুলনা করুন। খরচ, স্টক, অর্ডার, পেমেন্ট ও দৈনন্দিন কাজ যাচাই করতে এই স্কোরকার্ড ব্যবহার করুন।
এই গাইডের জন্য পর্যালোচনা করা সূত্রগুলো অর্ডারের সংখ্যার এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা দেয় না, যা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পরীক্ষিত কোনো পিওএস গ্রহণযোগ্য মোট খরচে স্টক, অর্ডার, স্টাফ বা পেমেন্টের রেকর্ডে বারবার হওয়া সমস্যার সমাধান করলেই শুধু পরিবর্তন করুন।
ভেন্ডরের কোনো পেজে সক্ষমতাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে সেটিকে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে ধরবেন না। গুরুত্বপূর্ণ ফাংশনগুলো ডেমো বা ট্রায়ালে যাচাই করুন। ফোনে নিচের চেকলিস্ট ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি ফলাফল লিখে রাখুন।
১. স্টক আপডেট
- বর্তমান ফলাফল: Excel-এর ভুল, দেরিতে আপডেট হওয়া বা প্রতিটি বিক্রির পর বারবার করতে হয় এমন কাজ লিখে রাখুন।
- পিওএস পরীক্ষা: একটি পণ্য বিক্রি করুন, বিক্রিটি বাতিল করুন, তারপর একটি রিটার্ন প্রসেস করুন।
- ফলাফল: প্রতিটি কাজ সফল বা ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করুন। শেষের স্টকের সংখ্যা সঠিক কি না যাচাই করুন।
২. অর্ডারের রেকর্ড
- বর্তমান ফলাফল: বাদ পড়া তথ্য, একই এন্ট্রি একাধিকবার থাকা এবং খুঁজে পাওয়া কঠিন এমন অর্ডার লিখে রাখুন।
- পিওএস পরীক্ষা: একটি নমুনা অর্ডার এন্ট্রি করুন, এর স্ট্যাটাস পরিবর্তন করুন, তারপর সেটি খুঁজুন।
- ফলাফল: পরীক্ষাটি সফল বা ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করুন এবং কোনো তথ্য বাদ পড়লে তা লিখে রাখুন।
৩. পেমেন্টের রেকর্ড
- বর্তমান ফলাফল: Excel-এ ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD), bKash ও Nagad পেমেন্ট কীভাবে রেকর্ড করেন, তা যাচাই করুন।
- পিওএস পরীক্ষা: প্রতিটি পদ্ধতির জন্য একটি নমুনা পেমেন্ট রেকর্ড ও মিলিয়ে দেখুন।
- ফলাফল: পরিশোধিত, অপরিশোধিত এবং মেলেনি এমন অর্ডারগুলো স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেন কি না, তা লিখে রাখুন।
৪. সেটআপ ও ইমপোর্ট
- বর্তমান ফলাফল: যেসব পণ্য, কাস্টমার, স্টক ও অর্ডারের ফাইল রাখতে হবে, সেগুলোর তালিকা করুন।
- পিওএস পরীক্ষা: মূল রেকর্ড পরিবর্তন না করে নমুনা পণ্য ও কাস্টমার ইমপোর্ট করুন।
- ফলাফল: সেটআপ সহজ বা কঠিন হিসেবে চিহ্নিত করুন। হাতে কোনো তথ্য ঠিকঠাক করতে হলে তা লিখে রাখুন।
৫. দৈনন্দিন অ্যাক্সেস
- বর্তমান ফলাফল: কাদের Excel ফাইলটি দরকার এবং কখন অ্যাক্সেসের কারণে সমস্যা হয়, তা লিখে রাখুন।
- পিওএস পরীক্ষা: ট্রায়ালের সময় স্টাফের অ্যাক্সেস, ফোনে ব্যবহার এবং অফলাইনে কেমন কাজ করে, তা যাচাই করুন।
- ফলাফল: আপনার স্বাভাবিক কর্মদিবসের জন্য অ্যাক্সেসটি উপযুক্ত বা অনুপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করুন।
৬. সম্পূর্ণ খরচ
- বর্তমান ফলাফল: আপনার বর্তমান সফটওয়্যারের খরচ এবং রেকর্ড ঠিক করতে স্টাফের যে সময় লাগে, তার তালিকা করুন।
- পিওএস পরীক্ষা: সেটআপ, ইমপোর্ট, ইউজার, সাপোর্ট ও নিয়মিত সব ফি লিখিতভাবে চান।
- ফলাফল: সম্পূর্ণ কোটেশন এবং পরে পরিবর্তন হতে পারে এমন যেকোনো ফি রেকর্ড করুন।
পিওএস আপনার দৈনন্দিন কাজে স্পষ্ট উন্নতি না আনলে Excel-ই ব্যবহার করুন। উন্নতি আনলে এমনভাবে কম ঝুঁকিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করুন, যাতে বর্তমান স্টক ও অর্ডারের রেকর্ড সুরক্ষিত থাকে। ব্যাকআপ কপি রাখুন, প্রথমে নমুনা ডেটা ইমপোর্ট করুন এবং চলমান কাজ সরানোর আগে মোট হিসাব মিলিয়ে দেখুন।
ছোট অনলাইন শপের জন্য POS সফটওয়্যার বনাম Excel: কোনটি বেছে নেবেন?
যত দিন Excel আপনার শপের কাজ ধীর না করে নির্ভুল ও ব্যবহারযোগ্য রেকর্ড দিচ্ছে, তত দিন এটি ব্যবহার করুন। বারবার রেকর্ডের সমস্যা হলে অর্ডার পূরণে দেরি হয় বা স্টক ও পেমেন্টের হিসাব মেলে না—তখন POS পরীক্ষা করে দেখুন।
যাচাই করা হয়নি এমন দৈনিক বা মাসিক অর্ডারের সংখ্যাকে সফটওয়্যার বদলানোর নিয়ম হিসেবে ব্যবহার করবেন না। আপনার নিজের শপের সমস্যা এবং আপনি যে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন, সেগুলোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন।
নিচের পরিস্থিতিতে Excel ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে:
- একজন ব্যক্তি রেকর্ডগুলো সঠিকভাবে রাখতে পারেন;
- রেকর্ডে থাকা স্টক সাধারণত হাতে থাকা স্টকের সঙ্গে মেলে;
- গরমিল খুঁজে বের করে সংশোধন করা হয়;
- রেকর্ডজনিত দেরি ছাড়াই অর্ডার Messenger ইনবক্স থেকে প্যাকিংয়ে যায়; এবং
- bKash, Nagad ও ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) পেমেন্ট অর্ডারের সঙ্গে মেলানো যায়।
বারবার অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি হয়ে গেলে বা কর্মীরা একই তথ্য বারবার এন্ট্রি করলে POS পরীক্ষা করা সার্থক হয়ে ওঠে। কী ঘটেছে তার স্পষ্ট রেকর্ড ছাড়াই স্টক বদলে যাওয়াও আরেকটি সতর্কসংকেত।
রিপোর্ট তৈরি করতে বেশি সময় লাগাও সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। কর্মীরা যখন আলাদা আলাদা Excel ফাইল, নোটবুক ও Messenger মেসেজ আপডেট করেন, তখন বিষয়টি খেয়াল করুন।
সিদ্ধান্ত নিতে এই স্কোরকার্ড ব্যবহার করুন
প্রতিটি ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণে আছে, সমস্যা অথবা যাচাই করা হয়নি হিসেবে চিহ্নিত করুন। এই চিহ্নগুলো থেকে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো পাস স্কোর বানাবেন না। POS ট্রায়ালে কোন বিষয়গুলোর উন্নতি হওয়া দরকার, তা ঠিক করতে এগুলো ব্যবহার করুন।
স্টকের নির্ভুলতা
- অবস্থা: রেকর্ডে থাকা স্টক বাস্তবে হাতে থাকা পণ্যের সঙ্গে মেলে কি না, যাচাই করুন।
- সতর্কসংকেত: অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি হয়ে যাওয়া বা স্টকের হিসাব না-মেলা বারবার ঘটছে।
- প্রমাণ: হাতে থাকা আসল স্টক গুনে Excel-এর ব্যালেন্সের সঙ্গে তুলনা করুন।
অর্ডার পরিচালনা
- অবস্থা: রেকর্ডের কারণে দেরি ছাড়াই অর্ডার Messenger ইনবক্স থেকে প্যাকিংয়ে যায় কি না, যাচাই করুন।
- সতর্কসংকেত: কাস্টমারের তথ্য বারবার কপি করা হয়, বাদ পড়ে যায় অথবা ভুল পার্সেল স্লিপে লেখা হয়।
- প্রমাণ: একই তথ্য একাধিকবার এন্ট্রি করা, তথ্য বাদ পড়া এবং রেকর্ডের সমস্যায় দেরি হওয়া পার্সেলগুলো নোট করুন।
কর্মীদের জবাবদিহি
- অবস্থা: স্টক, অর্ডার বা পেমেন্টের প্রতিটি পরিবর্তন স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায় কি না, যাচাই করুন।
- সতর্কসংকেত: কর্মীরা আলাদা আলাদা রেকর্ড পরিবর্তন করেন, কিন্তু কে পরিবর্তনটি করেছেন তা কেউ শনাক্ত করতে পারেন না।
- প্রমাণ: সাম্প্রতিক সংশোধনগুলো পর্যালোচনা করে দেখুন, সংশোধনকারী ব্যক্তির নাম ও কারণ রেকর্ড করা হয়েছিল কি না।
পেমেন্টের হিসাব মেলানো
- অবস্থা: প্রতিটি bKash, Nagad ও COD পেমেন্ট কোনো অর্ডারের সঙ্গে মেলে কি না, যাচাই করুন।
- সতর্কসংকেত: পেমেন্ট, কুরিয়ারের কালেকশন, রিটার্ন পার্সেল বা রিফান্ডের হিসাব মেলে না।
- প্রমাণ: দৈনিক যাচাই শেষ করার পরও যেসব এন্ট্রি নিয়ে তদন্ত করা দরকার, সেগুলোর তালিকা তৈরি করুন।
ব্যয় করা সময়
- অবস্থা: কাস্টমারের মেসেজের উত্তর দেওয়া ও প্যাকিংয়ের পাশাপাশি এন্ট্রি, যাচাই ও রিপোর্ট তৈরির কাজ করা যায় কি না, যাচাই করুন।
- সতর্কসংকেত: সংশোধন বা রিপোর্টের কারণে নিয়মিত মেসেজের উত্তর, প্যাকিং বা পার্সেল হস্তান্তরে দেরি হয়।
- প্রমাণ: রেকর্ডের কোন কাজগুলো অন্য কাজে বাধা দেয় এবং সেগুলোতে কেন বেশি সময় লাগে, তা নোট করুন।
মোট খরচ
- অবস্থা: বারবার লোকসান বা এড়ানো সম্ভব এমন শ্রম ছাড়াই বর্তমান প্রক্রিয়া সামলানো যায় কি না, যাচাই করুন।
- সতর্কসংকেত: রেকর্ডের ভুল ও ম্যানুয়াল কাজের খরচ সিস্টেম বদলানোর খরচের চেয়ে বেশি হতে পারে।
- প্রমাণ: নিশ্চিত লোকসান, সংশোধনের কাজ এবং নতুন সফটওয়্যারের জন্য জানানো প্রতিটি খরচ লিখে রাখুন।
POS ও ইনভেন্টরি সফটওয়্যার তুলনা করার আগে এই ফলাফলগুলো ব্যবহার করুন। মোট খরচ জানতে প্রতিটি প্রোভাইডারের কাছে নিচের বিষয়গুলো জিজ্ঞাসা করুন:
- সাবস্ক্রিপশন চার্জ;
- সেটআপ ও ডেটা মাইগ্রেশন;
- কর্মীদের ট্রেনিং;
- প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার;
- অতিরিক্ত ইউজারের চার্জ; এবং
- চলমান সাপোর্ট।
প্রতিটি বিষয় নিশ্চিত, অন্তর্ভুক্ত নয় অথবা উত্তর দেওয়া হয়নি হিসেবে রেকর্ড করুন। প্রোভাইডার লিখিত কোটেশনে কোনো খরচ দিলে তবেই সেটি অন্তর্ভুক্ত করুন।
ফিচারের লম্বা তালিকা দিয়ে প্রমাণ হয় না যে সফটওয়্যারটি আপনার শপের কাজে আসবে। আগে থেকে প্রস্তুত করা ডেমোতে দৈনন্দিন কাজের ঝামেলাপূর্ণ অংশগুলো বাদও পড়তে পারে।
ট্রায়ালের সময় আপনার পণ্যের আসল রেকর্ড ব্যবহার করুন। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. Messenger ইনবক্স থেকে একটি অর্ডার নিন। ২. কত স্টক আছে তা যাচাই করে পণ্যটি রিজার্ভ করুন। ৩. bKash, Nagad বা COD পেমেন্টের মাধ্যম রেকর্ড করুন। ৪. পার্সেল ও এর পার্সেল স্লিপ প্রস্তুত করুন। ৫. বাতিল অর্ডার বা রিটার্ন পার্সেল প্রসেস করুন। ৬. স্টক, পেমেন্ট ও অর্ডারের রিপোর্ট সঠিক আছে কি না, যাচাই করুন।
ট্রায়ালে এই কাজের ধারা অনুসরণ করা হলে এবং আপনার রেকর্ড করা সমস্যাগুলোর উন্নতি হলেই শুধু সফটওয়্যার বদলান। তা না হলে আপাতত Excel ব্যবহার করুন অথবা অন্য কোনো বিকল্প পরীক্ষা করুন।
পিওএস, ইনভেন্টরি সফটওয়্যার ও ইকমার্স টুলের মধ্যে পার্থক্য
সফটওয়্যারের ওয়েবসাইটে দেওয়া লেবেল দেখে নয়, সেটি কী কাজ সম্পন্ন করে তা দেখে সফটওয়্যার বেছে নিন। ভিন্ন ফিচারের প্রোডাক্টে “পিওএস,” “ইনভেন্টরি,” “ইআরপি,” “অটোমেশন” ও “ইকমার্স” লেখা থাকতে পারে।

আপনার দোকানে এক্সেল ব্যবহার করা হলে, আপনি বাস্তবে যে স্প্রেডশিটটি নিয়মিত আপডেট করেন সেটি যাচাই করুন। কে অর্ডার, পেমেন্ট, স্টকের পরিবর্তন, কুরিয়ারের তথ্য ও রিটার্ন এন্ট্রি করেন, তা দেখুন। ব্যস্ত দিনের মধ্যেও এসব এন্ট্রি ঠিক থাকে কি না, সেটিও দেখুন।
বর্তমান প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করলে একটি স্প্রেডশিটই আপনার দোকানের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। আসল প্রশ্ন হলো, কয়েকটি ফাইলে খোঁজাখুঁজি না করেই আপনি একটি অর্ডার খুঁজে বের করতে, পেমেন্ট নিশ্চিত করতে ও স্টক দেখতে পারেন কি না।
এই তুলনার জন্য দেখুন, একটি পিওএস বিক্রি, পেমেন্ট ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্টকের পরিবর্তন রেকর্ড করে কি না। শুধু পিওএস লেবেলের ওপর নির্ভর করবেন না। অনলাইন অর্ডার, আংশিক পেমেন্ট, ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) ও রিটার্ন পার্সেল একই রেকর্ডে কী প্রভাব ফেলে, তা ভেন্ডরকে দেখাতে বলুন।
নিচের টেবিলটি সফটওয়্যারের সর্বজনীন সংজ্ঞার তালিকা নয়, বরং বাস্তবে যাচাই করার একটি কাঠামো।
| ভেন্ডরের ব্যবহার করা লেবেল | আপনার দোকানের জন্য যে কাজ যাচাই করবেন | যে প্রমাণ চাইবেন |
|---|---|---|
| এক্সেল বা স্প্রেডশিট | আপনার বর্তমান ফাইলে অর্ডার, পেমেন্ট, স্টক ও কুরিয়ারের তথ্য রেকর্ড করা | একটি নমুনা অর্ডার এন্ট্রি করুন, এর স্ট্যাটাস পরিবর্তন করুন এবং কোনো এন্ট্রি বাদ পড়েছে কি না খুঁজে দেখুন |
| পিওএস | একটি বিক্রি, এর পেমেন্ট স্ট্যাটাস ও সংশ্লিষ্ট স্টক পরিবর্তন রেকর্ড করা | অনলাইন, কাউন্টার, COD ও রিটার্ন হওয়া অর্ডার প্রসেস করুন |
| ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট | স্টক আসা ও বের হওয়া রেকর্ড করা | কেনাকাটা, বিক্রি, ক্ষতি, এক্সচেঞ্জ ও রিটার্ন দেখান |
| অর্ডার ম্যানেজমেন্ট | নিশ্চিত করা থেকে ডেলিভারি বা রিটার্ন পর্যন্ত প্রতিটি অর্ডার দৃশ্যমান রাখা | Messenger, ওয়েবসাইট ও কাউন্টারের অর্ডার কাজের তালিকায় রাখুন |
| ওয়েবসাইট বিল্ডার | কাস্টমারকে প্রোডাক্ট দেখা ও অর্ডার করার সুযোগ দেওয়া | অর্ডারটি কোথায় দেখা যায় এবং কর্মীরা কীভাবে সেটি প্রসেস করেন, তা দেখান |
| কুরিয়ার টুল | পার্সেল বুকিং তৈরি করা এবং এর বর্তমান ডেলিভারি স্ট্যাটাস অনুসরণ করা | বুকিং, পার্সেল স্লিপ, COD-এর পরিমাণ ও রিটার্ন পার্সেল অর্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখান |
| পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট | পাওয়া টাকা বা রিফান্ড সঠিক অর্ডারের সঙ্গে মেলানো | একটি bKash বা Nagad পেমেন্ট খুঁজে সংশ্লিষ্ট অর্ডারটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করুন |
একটি প্রোডাক্ট একাধিক সারির জন্য প্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। এতে প্রমাণ হয় না যে সেটি তালিকাভুক্ত প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করে। প্রোডাক্টের ভেতরে প্রতিটি প্রয়োজনীয় ধাপ যাচাই করুন, সম্ভব হলে দৈনন্দিন কাজে আপনি যে ফোন ব্যবহার করেন সেটিতে।
লেবেল ব্যবহারে কেন সতর্ক থাকা দরকার, StoreX তার একটি উদাহরণ। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা StoreX-এর পেজে এটিকে বাংলাদেশের একটি ইকমার্স অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট বিল্ডার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণনাটিতে এটিকে পিওএস সফটওয়্যার বলা হয়নি। এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিওএস ক্যাটাগরিতে না ফেলে, দেখানো কাজগুলোর সঙ্গে আপনার প্রয়োজন তুলনা করুন।
ভেন্ডরের পেজ খোলার আগে কাজের একটি সহজ তালিকা তৈরি করুন:
- অর্ডার কোথায় আসে তা লিখুন, যেমন Messenger ইনবক্স, ওয়েবসাইট বা কাউন্টার।
- বর্তমানে বিক্রি, পেমেন্ট স্ট্যাটাস ও হাতে থাকা স্টক কোথায় রেকর্ড করেন, তা চিহ্নিত করুন।
- প্যাকিং, পার্সেল স্লিপ, কুরিয়ার বুকিং, COD সংগ্রহ ও রিটার্ন পার্সেল যোগ করুন।
- প্রতিটি রেকর্ড কে এবং কখন আপডেট করেন, তা লিখে রাখুন।
- কোন ধাপগুলোতে একই অর্ডার রেকর্ড ব্যবহার করা আবশ্যক এবং কোনগুলো আলাদা থাকতে পারে, তা ঠিক করুন।
- প্রতিটি ভেন্ডরকে একটি নমুনা অর্ডার দিয়ে ঠিক ওই ধাপগুলো দেখাতে বলুন।
- একটি বাতিল অর্ডার ও একটি রিটার্ন পার্সেল দিয়ে আবার একই পরীক্ষা করুন।
ডেমোনস্ট্রেশনের সময় শুধু ড্যাশবোর্ড ঘুরিয়ে দেখানো মেনে নেবেন না। একটি অর্ডার তৈরি করতে, আংশিক পেমেন্ট গ্রহণ করতে, ডেলিভারি বুক করতে ও একটি রিটার্ন রেকর্ড করতে বলুন। এরপর পেমেন্ট, স্টক ও অর্ডার স্ট্যাটাসের তথ্য এখনো মিলছে কি না, তা দেখুন।
চ্যাট, ওয়েবসাইট ও কাউন্টারের অর্ডার একসঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলে, প্রথমে আপনার Facebook অর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়াটি সাজিয়ে নিন। এরপর কোন প্রোডাক্ট কী কাজ সম্পন্ন করে, তার ভিত্তিতে তুলনা করুন। দুটি প্রোডাক্টেই “অটোমেশন,” “ইআরপি,” “ইনভেন্টরি” বা “ইকমার্স”-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে সেগুলো একইভাবে কাজ করে—এমনটি ধরে নেবেন না।
Excel-এর কারণে আপনার দোকানের সময় বা টাকা নষ্ট হচ্ছে কি না, কীভাবে বুঝবেন
শুধু বিরক্তির ওপর ভিত্তি করে Excel-কে বিচার করবেন না। কোথায় একই কাজ বারবার হচ্ছে, কোথায় রেকর্ডে ভুল হচ্ছে এবং বিকল্প ব্যবস্থায় কী কী উন্নতি দরকার, তা লিখে রাখুন।
১. আপনার বর্তমান অর্ডারের ধাপগুলো এঁকে নিন
প্রথম মেসেজ থেকে চূড়ান্ত পেমেন্টের রেকর্ড পর্যন্ত একটি অর্ডারের পুরো পথ অনুসরণ করুন। প্রতিটি ধাপে যে টুল, ফাইল বা খাতা ব্যবহার করা হয়, তা লিখুন:
১. Messenger ইনবক্স, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা আসে। ২. কাস্টমারের তথ্য ও অর্ডার নিশ্চিত করা হয়। ৩. স্টক থেকে সঠিক পণ্য, সাইজ ও রং বাদ দেওয়া হয়। ৪. bKash, Nagad, ব্যাংক বা ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) পেমেন্টের অবস্থা রেকর্ড করা হয়। ৫. কুরিয়ার বুকিং ও পার্সেল স্লিপ প্রস্তুত করা হয়। ৬. ডেলিভারি, বাতিল বা রিটার্ন পার্সেল রেকর্ড করা হয়। ৭. কুরিয়ারের কালেকশন, পেমেন্ট ও রিটার্নের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়।
যখনই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য কপি করা হয়, তখন একটি তীরচিহ্ন আঁকুন। কে তথ্য কপি করেন এবং সাধারণত কোথায় সংশোধন করতে হয়, তা চিহ্নিত করুন।
২. সময় ও ভুলের হিসাব রাখুন
দোকানের স্বাভাবিক কাজের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন এক সপ্তাহের কাজের হিসাব রাখুন। সেই সপ্তাহে আপনার দোকানে খুব কম অর্ডার এলে, হিসাবটি স্বাভাবিক বেচাকেনার চিত্র না দেখানো পর্যন্ত চালিয়ে যান।
নিয়মিত অর্ডার, ডেলিভারি আপডেট ও রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত করুন। অস্বাভাবিকভাবে কম ব্যস্ত সময়কে আপনার প্রাথমিক মান হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
যেসব কাজে সময় যায়, তা রেকর্ড করুন:
- কাস্টমার বা অর্ডারের তথ্য কপি করা;
- ডুপ্লিকেট বা ভুল রেকর্ড ঠিক করা;
- স্টক আছে কি না যাচাই করা;
- পেমেন্ট বা ডেলিভারির তথ্য খুঁজে বের করা;
- বিক্রি, স্টক বা পেমেন্টের রিপোর্ট তৈরি করা।
পরে আন্দাজ না করে কাজ শুরুর ও শেষের সময় রেকর্ড করুন। অন্য কোনো দোকানের অর্ডার সংখ্যা বা কাজের সময়কে নিজের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
সময়ের হিসাবের পাশে চোখে দেখা যায়—এমন ভুলের সংখ্যাও লিখুন। স্টকের চেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য, বাদ পড়া অর্ডার, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি, ব্যাখ্যাহীন স্টক সমন্বয়, রেকর্ড না করা রিটার্ন এবং পেমেন্টের গরমিল অন্তর্ভুক্ত করুন। কোন অর্ডার বা পণ্য প্রভাবিত হয়েছে, তা লিখুন, যাতে প্রতিটি সমস্যা যাচাই করা যায়।
৩. প্রয়োজনীয় বিষয় ও সুবিধাজনক বিষয় আলাদা করুন
প্রতিটি কাঙ্ক্ষিত ফিচারকে অপরিহার্য বা সুবিধাজনক হিসেবে চিহ্নিত করুন। অপরিহার্য শর্ত এমন একটি প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখে, যা আপনাকে নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতেই হবে। সুবিধাজনক কোনো বিষয় কাজ কমাতে পারে, তবে শুধু সেটির ভিত্তিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
| প্রয়োজন | সম্ভাব্য চিহ্ন | নিজেকে যে প্রশ্ন করবেন |
|---|---|---|
| সাইজ ও রং অনুযায়ী স্টক | অপরিহার্য | ভুল স্টক ব্যালান্সের কারণে কি নেই এমন কোনো পণ্যের অর্ডার নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে? |
| রেকর্ড এক্সপোর্ট করা | কিছু দোকানের জন্য অপরিহার্য | রিপোর্ট, ব্যাকআপ বা অন্য কাজের জন্য আপনার কি ফাইল দরকার? |
| রিটার্নের পর স্টক আপডেট | অপরিহার্য | বিক্রির উপযোগী রিটার্ন করা পণ্য কি আবার স্টকে পাওয়া যাচ্ছে হিসেবে দেখাতে হবে? |
| রসিদ প্রিন্ট করা | কিছু দোকানের জন্য সুবিধাজনক | কাস্টমার বা কাউন্টার সেলের জন্য কি সত্যিই প্রিন্ট করা রসিদ দরকার? |
আপনার চিহ্নগুলো ভিন্ন হতে পারে। কোনো বিক্রেতার ফিচারের তালিকার ওপর নয়, নিজের কাজের ধারার ওপর ভিত্তি করে এগুলো ঠিক করুন।
৪. সমস্যাগুলো যাচাইযোগ্য ফলাফল হিসেবে আবার লিখুন
“স্টক নিয়ন্ত্রণ আরও ভালো হতে হবে”—এ ধরনের শর্ত এড়িয়ে চলুন। একটি কাজ এবং সেই কাজ থেকে আপনি যে ফল আশা করেন, তা লিখুন।
- উপযুক্ত ক্ষেত্রে, রিটার্ন হওয়া পার্সেলটি অবশ্যই সঠিক সাইজ ও রং আবার স্টকে যোগ করবে।
- প্রতিটি ম্যানুয়াল স্টক সমন্বয়ে অবশ্যই ব্যবহারকারী ও কারণ দেখাতে হবে।
- একটি নিশ্চিত অর্ডারের জন্য সঠিক ভ্যারিয়েন্টের স্টক শুধু একবারই কমতে হবে।
- বাতিল হওয়া অর্ডারে স্টক ফিরিয়ে আনার জন্য আপনার বেছে নেওয়া নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
- পেমেন্টের রেকর্ড অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অর্ডার ও কালেকশনের রেকর্ডের সঙ্গে মিলতে হবে।
- এক্সপোর্ট করা ফাইলে আপনার বর্তমান রিপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘরগুলো থাকতে হবে।
আপনি যেসব প্রমাণ পরীক্ষা করবেন, সেগুলোও যোগ করুন—যেমন স্টকের হিস্ট্রি, অর্ডারের রেকর্ড বা এক্সপোর্ট করা ফাইল।
৫. শুরু করার জন্য নির্ভুল প্রাথমিক হিসাব ঠিক করুন
কোনো বিকল্প ব্যবস্থা যাচাই করার আগে, প্রতিটি পণ্যের ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী সরাসরি স্টক গুনে নিন। চলমান অর্ডার, রিটার্ন পার্সেল, পেমেন্টের রেকর্ড ও ব্যাখ্যাহীন সমন্বয়ের হিসাব মিলিয়ে নিন। আমাদের অনলাইন দোকানের স্টক রেকর্ড রাখার গাইডে একটি সহজ নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সংশোধিত স্টক তালিকা সংরক্ষণ করুন এবং কখন এটি যাচাই করা হয়েছে, তা লিখে রাখুন। তা না হলে, শুরুর ভুল তথ্যকে নতুন সফটওয়্যারের কারণে হওয়া সমস্যা বলে মনে হতে পারে।
Excel থেকে বদলানোর আগে পিওএস সফটওয়্যার কীভাবে পরীক্ষা করবেন
ভেন্ডরের তৈরি করা ডেমো নয়, আপনার আসল অর্ডারের পুরো প্রক্রিয়া পরীক্ষা করুন। বাছাই করা প্রতিটি সিস্টেমে একই ডেটা ও পরিস্থিতি ব্যবহার করুন।

১. ছোট একটি ইমপোর্ট ফাইল তৈরি করুন
আপনার সংশোধন করা Excel রেকর্ড থেকে সামলানো যায় এমন কিছু নমুনা কপি করুন। এতে রাখুন:
- পণ্য ও পণ্যের ভ্যারিয়েন্ট;
- প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের প্রারম্ভিক স্টক;
- কাস্টমারের রেকর্ড;
- বিভিন্ন স্ট্যাটাসের পুরোনো অর্ডার।
মূল ফাইলটি অপরিবর্তিত রাখুন। আপনি সামনে থাকা অবস্থায় ভেন্ডরকে কপি করা ফাইলটি ইমপোর্ট করতে বলুন। শুধু ইমপোর্ট করা যায়—এমন কথা মেনে নেবেন না।
এরপর আপনার সোর্স ফাইলের সঙ্গে ইমপোর্ট হওয়া রোয়ের সংখ্যা ও মোট প্রারম্ভিক স্টক মিলিয়ে দেখুন। বাতিল হওয়া প্রতিটি রো পরীক্ষা করুন এবং বাংলা লেখা পড়া যাচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন। টেস্ট ফাইলটি সত্যিই ছোট হলে, ইমপোর্ট হওয়া প্রতিটি রো মূল ফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
বড় টেস্ট ফাইলের ক্ষেত্রে, ইমপোর্টের আগে আপনার নমুনা রোগুলো লিখে রাখুন। বাংলা লেখা, পণ্যের ভ্যারিয়েন্ট, কাস্টমার এবং ফাইলে থাকা প্রতিটি অর্ডার স্ট্যাটাসের রো রাখুন। বাছাই করা রোগুলোর প্রতিটি ফিল্ড মিলিয়ে দেখুন, শুধু পণ্যের নাম বা অর্ডার নম্বর নয়।
বাতিল হওয়া রো, বাদ পড়া ফিল্ড ও ডুপ্লিকেট রেকর্ড দেখানো একটি এরর রিপোর্ট চান। ভুলগুলো ঠিক করে ডুপ্লিকেট তৈরি না করেই আবার ইমপোর্ট করা যায় কি না পরীক্ষা করুন।
২. আপনার নিয়মিত অর্ডারগুলো এন্ট্রি করুন
প্রতিটি অর্ডার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে দেখুন, সঙ্গে পেমেন্ট ও স্টকে এর প্রভাবও পরীক্ষা করুন। ভেন্ডরের নমুনা ক্যাটালগের বদলে টেস্ট ফাইলের পণ্য ব্যবহার করুন।
- Messenger ইনবক্সে পাওয়া একটি Facebook অর্ডার এন্ট্রি করুন।
- আপনি ওয়েবসাইটে বিক্রি করলে, একটি ওয়েবসাইট অর্ডার করুন।
- কাস্টমার সরাসরি এসে কিনতে পারলে, একটি কাউন্টার সেল রেকর্ড করুন।
- আংশিক পেমেন্ট করা একটি অর্ডার ও এর বাকি টাকা রেকর্ড করুন।
- ডিসপ্যাচের আগে একটি অর্ডার ক্যানসেল করে স্টক ফেরত এসেছে কি না দেখুন।
- একটি পণ্যের ভ্যারিয়েন্টের বদলে অন্য একটি ভ্যারিয়েন্ট এক্সচেঞ্জ করুন।
- একটি ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) রিটার্ন প্রসেস করে এর অর্ডার, পেমেন্ট ও স্টকের রেকর্ড পরীক্ষা করুন।
- ম্যানুয়ালি স্টক সংশোধন করে এর কারণ রেকর্ড করুন।
প্রতিটি টেস্টের আগে প্রত্যাশিত ফল লিখে রাখুন। এতে আকর্ষণীয় স্ক্রিন দেখে ভুল স্টক ব্যালান্স থেকে আপনার মনোযোগ সরে যাবে না।
৩. দৈনন্দিন নিয়ন্ত্রণ ও কঠিন পরিস্থিতি পরীক্ষা করুন
টেস্টের একটি পণ্যের স্টক কমিয়ে দিন। সিস্টেম কী করে দেখুন। এই কাজের জন্য কনফিগারেশন বা অন্য কোনো সার্ভিস দরকার কি না জিজ্ঞাসা করুন।
এরপর অনুমতি থাকা দুজন ইউজারকে প্রায় একই সময়ে রেকর্ড পরিবর্তন করতে বলুন। ইউজার পারমিশন পরীক্ষা করুন এবং অডিট হিস্ট্রিতে কে কী পরিবর্তন করেছেন তা দেখা যায় কি না দেখুন। স্টক পরিবর্তন বা অর্ডার ক্যানসেল করার মতো সংবেদনশীল কাজ দিয়ে এটি পরীক্ষা করুন।
আপনার সত্যিই দরকার এমন রিপোর্টগুলো খুলুন। ফিল্টার করুন, নমুনা অর্ডারের সঙ্গে মোট হিসাব মিলিয়ে দেখুন এবং মূল ডেটা এক্সপোর্ট করুন। এক্সপোর্ট করা ফাইলে আপনার বর্তমান রিপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় ফিল্ডগুলো আছে কি না নিশ্চিত করুন।
আপনি সাধারণত যে ফোন সঙ্গে রাখেন, সেটি দিয়ে সিস্টেমটি ব্যবহার করুন। লেখার আকার, সার্চ, ভ্যারিয়েন্ট বাছাই এবং একটি অর্ডার সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনগুলো পরীক্ষা করুন। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে কী হয় জিজ্ঞাসা করুন, তারপর ট্রায়ালের সময় নিরাপদভাবে সেই পরিস্থিতি পরীক্ষা করুন। আবার সংযোগ হওয়ার পর অসম্পূর্ণ বা বারবার হওয়া ট্রানজেকশন দেখা যায় কি না পরীক্ষা করুন।
৪. ইন্টিগ্রেশনগুলোকে কার্যকারিতা প্রমাণ করতে বলুন
ভেন্ডরকে দাবি করা প্রতিটি ওয়েবসাইট, পেমেন্ট, কুরিয়ার বা অ্যাকাউন্টিং ইন্টিগ্রেশন সরাসরি চালিয়ে দেখাতে বলুন। স্লাইড, লোগো বা মুখের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়।
প্রতিটি ইন্টিগ্রেশনের জন্য জিজ্ঞাসা করুন:
- এটি কি নেটিভ, ম্যানুয়াল, নাকি থার্ড পার্টি দেয়?
- সিস্টেমগুলোর মধ্যে কোন কোন তথ্য আদান-প্রদান হয়?
- সিঙ্কিং কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়, নাকি কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়?
- ব্যর্থ বা ডুপ্লিকেট ট্রান্সফার কীভাবে সামলানো হয়?
- সেটআপ, ব্যবহার বা সাপোর্টের জন্য কি আলাদা চার্জ দিতে হয়?
Hishabee-এর ওয়েবসাইটে, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনের ফ্রি ট্রায়ালের বিজ্ঞাপন ছিল। একই দিনে পড়া তাদের ব্লগে বলা হয়েছিল, বিক্রেতারা তাদের অ্যাপ ডাউনলোড করে পণ্য যোগ করতে এবং একটি স্টোর লিংক শেয়ার করতে পারবেন। এই দাবিগুলো শুধু ওই উল্লেখ করা প্রক্রিয়াটি চেষ্টা করার পক্ষে ভিত্তি দেয়। এগুলো ইমপোর্ট, রিপোর্ট, পারমিশন, অফলাইন ব্যবহার বা পিওএসের অন্য কোনো ফাংশন নিশ্চিত করে না। অফারটির ওপর নির্ভর করার আগে আবার যাচাই করুন।
৫. প্রমাণ রাখুন এবং প্রতিটি অপশনকে একইভাবে স্কোর দিন
স্ক্রিনশট, এরর রিপোর্ট, এক্সপোর্ট করা ফাইল এবং ভেন্ডরের লিখিত উত্তর সেভ করে রাখুন। প্রতিটি সিস্টেমের ফল একই ওয়ার্কশিটে রেকর্ড করুন।
| পরিস্থিতি | যে প্রমাণ রাখতে হবে | ফলাফল |
|---|---|---|
| ডেটা ইমপোর্ট | ইমপোর্ট সামারি ও এরর রিপোর্ট | পাস, আংশিক বা ফেল |
| অর্ডার ও রিটার্ন | অর্ডার, স্টক ও পেমেন্টের রেকর্ড | পাস, আংশিক বা ফেল |
| পারমিশন ও হিস্ট্রি | ইউজার সেটিংস ও অডিট রেকর্ড | পাস, আংশিক বা ফেল |
| রিপোর্ট ও এক্সপোর্ট | রিপোর্টের স্ক্রিনশট ও এক্সপোর্ট করা ফাইল | পাস, আংশিক বা ফেল |
| মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া | স্ক্রিনশট ও দেখা ফলাফল | পাস, আংশিক বা ফেল |
| ইন্টিগ্রেশন | সরাসরি ডেমো ও লিখিত ব্যাখ্যা | পাস, আংশিক বা ফেল |
স্টাফদের ম্যানুয়ালি অতিরিক্ত কাজ করতে হলে বা অন্য কোনো সার্ভিস নিতে হলে ফলাফল “আংশিক” হিসেবে চিহ্নিত করুন। আপনার প্রয়োজনীয় কাজের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলা ব্যর্থতাগুলো লিখিতভাবে সমাধান না হওয়া বা জেনেশুনে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত সিস্টেম বদলাবেন না।
ছোট অনলাইন শপের জন্য পিওএস সফটওয়্যারের খরচ কত?
সব শপের জন্য পুরো মার্কেটে একটাই নির্দিষ্ট দাম নেই। লিখিত কোটেশন, সম্ভাব্য ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ধরে আপনার মোট খরচ হিসাব করুন।
একজন ভেন্ডরের প্রকাশ করা প্ল্যান দেখে পুরো পিওএস মার্কেটের খরচ বোঝা যায় না। শুধু অপশন বাছাইয়ের প্রাথমিক তালিকা করতে প্রকাশিত দাম ব্যবহার করুন। তারপর আপনার শপের জন্য তৈরি করা পূর্ণাঙ্গ লিখিত কোটেশনগুলো তুলনা করুন।
আইটেমভিত্তিক কোটেশন চান
প্রাথমিক তালিকায় রাখা প্রত্যেক ভেন্ডরকে একই অনুরোধ পাঠান। প্রতিটি আইটেম অন্তর্ভুক্ত, অপশনাল নাকি আলাদা চার্জ দিতে হবে, তা জানতে চান:
- সাবস্ক্রিপশন ও বিলিং পিরিয়ড
- সেটআপ ও অ্যাকাউন্ট কনফিগারেশন
- Excel ডেটা পরিষ্কার করা ও ইমপোর্ট
- স্টাফ ট্রেনিং
- অতিরিক্ত ইউজার বা কর্মী
- প্ল্যানের সীমার বেশি অর্ডার
- সাপোর্ট ও মেইনটেন্যান্স
- সফটওয়্যার আপগ্রেড
- ইন্টিগ্রেশন
- ট্যাক্স
- প্রয়োজনীয় ফোন, কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার বা অন্য হার্ডওয়্যার
- কনট্রাক্ট বাতিল ও ডেটা এক্সপোর্ট
উত্তরটি লিখিতভাবে চান। কোটেশনটি কত দিন কার্যকর থাকবে এবং কোন কোন চার্জ পরিবর্তন হতে পারে, সেটিও জানতে চান।
প্রতিটি কোটেশন ফোনের একটি ফোল্ডারে সেভ করুন। ফাইলের নামে ভেন্ডরের নাম ও কোটেশনের তারিখ স্পষ্টভাবে লিখুন। পরে রিনিউয়ালের শর্ত তুলনা করতে বা কোনো বিতর্কিত চার্জ নিয়ে কথা বলতে এটি কাজে দেবে।
প্রকাশিত দাম শুধু শুরুর ধারণা হিসেবে ব্যবহার করুন
৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা StoreX-এর প্ল্যান পেজে নিচের বার্ষিক দাম ও সীমা প্রকাশ করা ছিল:
| প্ল্যান | প্রকাশিত বার্ষিক দাম | কর্মী | প্রতি মাসে অর্ডার | প্রকাশিত অতিরিক্ত অর্ডারের চার্জ |
|---|---|---|---|---|
| বেসিক | ৳১১,৮৮০ | ২ | ৫০০ | ৳২ |
| রেগুলার | ৳২৩,৮৮০ | ৫ | ১,৫০০ | ৳১.৫০ |
| অ্যাডভান্সড | ৳৫৯,৮৮০ | ১০ | ৫,০০০ | ৳১ |
তাই StoreX-এর প্রকাশিত বার্ষিক দাম ৳১১,৮৮০ থেকে ৳৫৯,৮৮০ পর্যন্ত ছিল। একই পেজে আনলিমিটেড প্রোডাক্ট দেখানো হলেও কোনো ফ্রি টিয়ার বা ট্রায়াল ছিল না।
এটি একজন ভেন্ডরের প্রকাশিত দামের সীমা, সাধারণ পিওএস মার্কেটের দামের সীমা নয়। বাংলাদেশের সব প্রোভাইডার কত চার্জ নেয়, তা এতে দেখা যায় না।
এই তথ্যগুলো থেকে StoreX কোন কোন পিওএস ফাংশন দেয়, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায় না। সেটআপ, মাইগ্রেশন, ট্রেনিং, হার্ডওয়্যার, ট্যাক্স বা ইন্টিগ্রেশনের চার্জও এগুলো নিশ্চিত করে না।
কেনার আগে বর্তমান প্ল্যান পেজ আবার যাচাই করুন। তারপর আপনার শপের ইউজার, অর্ডার, যন্ত্রপাতি ও ডেটা অনুযায়ী একটি লিখিত কোটেশন নিন।
প্রতিটি অপশনের জন্য একটি করে ওয়ার্কশিট পূরণ করুন
নিচের ব্লকগুলো ফোনের Notes অ্যাপে কপি করুন। প্রত্যেক ভেন্ডরের জন্য আলাদা একটি কপি পূরণ করুন। ভেন্ডর লিখিতভাবে নিশ্চিত না করা পর্যন্ত প্রতিটি টাকার অঙ্কের ঘর ফাঁকা রাখুন।
১. বার্ষিক চুক্তিবদ্ধ খরচ
- আপনার প্রয়োজন: প্রয়োজনীয় প্ল্যান, ইউজার ও কনট্রাক্টের মেয়াদ
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: প্ল্যান, বিলিং পিরিয়ড, রিনিউয়ালের শর্ত ও বাতিলের শর্ত
- পরিমাণ: ৳________
২. সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যবহারের খরচ
- আপনার প্রয়োজন: অন্তর্ভুক্ত সীমার চেয়ে প্রতি মাসে সম্ভাব্য অতিরিক্ত অর্ডার
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: অতিরিক্ত অর্ডারের চার্জ ও হিসাবের পদ্ধতি
- পরিমাণ: ৳________
৩. সেটআপ
- আপনার প্রয়োজন: প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট, প্রোডাক্ট, স্টক ও ইনভয়েস কনফিগারেশন
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: অন্তর্ভুক্ত কাজ, বাদ থাকা কাজ ও আলাদা চার্জ
- পরিমাণ: ৳________
৪. ডেটা ইমপোর্ট
- আপনার প্রয়োজন: যেসব Excel ফাইল ও রেকর্ড সরাতে হবে
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: অন্তর্ভুক্ত ফাইল, ডেটা পরিষ্কারের কাজ ও সংশোধনের চার্জ
- পরিমাণ: ৳________
৫. ট্রেনিং
- আপনার প্রয়োজন: যাদের ট্রেনিং দরকার এবং তাদের যেসব কাজ শিখতে হবে
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: ট্রেনিংয়ের ধরন, অন্তর্ভুক্ত সেশন ও অতিরিক্ত চার্জ
- পরিমাণ: ৳________
৬. অতিরিক্ত ইউজার
- আপনার প্রয়োজন: যাদের নিজস্ব অ্যাকসেস দরকার, সেই মোট লোকসংখ্যা
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: অন্তর্ভুক্ত ইউজার এবং অতিরিক্ত ইউজারের চার্জ
- পরিমাণ: ৳________
৭. হার্ডওয়্যার
- আপনার প্রয়োজন: ফোন, কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টার বা অন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: প্রয়োজনীয় মডেল, কেনার উৎস ও বদলে দেওয়ার দায়িত্ব
- পরিমাণ: ৳________
৮. সাপোর্ট ও আপগ্রেড
- আপনার প্রয়োজন: আপনার শপের দরকারি সাপোর্ট চ্যানেল ও রেসপন্সের মান
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: অন্তর্ভুক্ত সাপোর্ট, বাদ থাকা বিষয়, আপগ্রেডের শর্ত ও নিয়মিত চার্জ
- পরিমাণ: ৳________
৯. ইন্টিগ্রেশন
- আপনার প্রয়োজন: যেসব ওয়েবসাইট, অ্যাকাউন্টিং বা অন্য টুল কানেক্ট করতে হবে
- ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: পাওয়া যায় এমন কানেকশন, সেটআপের কাজ ও নিয়মিত চার্জ
- পরিমাণ: ৳________
১০. ট্যাক্স - আপনার প্রয়োজন: চূড়ান্ত পরিশোধযোগ্য পরিমাণ দেখানো একটি পূর্ণাঙ্গ ইনভয়েস - ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: প্রযোজ্য ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত নাকি আলাদাভাবে যোগ হবে - পরিমাণ: ৳________
১১. ব্যবহার বন্ধ করা ও ডেটা এক্সপোর্ট - আপনার প্রয়োজন: সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ করলে যেসব ফাইল দরকার হবে - ভেন্ডরের লিখিত উত্তর: এক্সপোর্ট ফরম্যাট, অন্তর্ভুক্ত সহায়তা ও অতিরিক্ত চার্জ - পরিমাণ: ৳________
ব্লকগুলো পূরণ করার পর নিচের মোট হিসাবগুলো আলাদাভাবে যোগ করুন:
- একবারের পরিবর্তন খরচ: সেটআপ, ডেটা পরিষ্কার, ইমপোর্ট, ট্রেনিং ও নতুন হার্ডওয়্যার
- বার্ষিক নিয়মিত খরচ: সাবস্ক্রিপশন, সাপোর্ট, ইন্টিগ্রেশন ও সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যবহারের খরচ
- প্রথম বছরের আনুমানিক মোট খরচ: পরিবর্তন খরচের সঙ্গে বার্ষিক নিয়মিত খরচ
- পরবর্তী সময়ের আনুমানিক বার্ষিক মোট খরচ: শেষ হয়ে যাওয়া পরিবর্তনের কাজ বাদ দিয়ে শুধু নিয়মিত খরচ
অতিরিক্ত ব্যবহারের খরচ বের করতে প্ল্যানে থাকা সীমার সঙ্গে প্রতি মাসের সম্ভাব্য অর্ডার তুলনা করুন। ভেন্ডরকে তার হিসাবটি লিখিতভাবে দেখাতে বলুন।
কোনো ভেন্ডর আংশিক মাস, বাতিল অর্ডার বা রিটার্ন হওয়া অর্ডার কীভাবে গোনে, তা ধরে নেবেন না। কোটেশন গ্রহণের আগে জিজ্ঞেস করুন। প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বিষয়গুলো বাদ থাকলে প্ল্যানের কম দাম বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
নিজের রেকর্ড থেকে ROI হিসাব করুন
প্রতিটি অপশনের জন্য একই পদ্ধতিতে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বা ROI হিসাব করুন। এতে ভিন্ন অনুমানের কারণে আপনার তুলনা বদলে যাবে না।
| ROI আইটেম | যেভাবে হিসাব করবেন | আপনার হিসাব |
|---|---|---|
| মাসে বাঁচানো সময় | পিওএস ব্যবহারের আগে মাপা সময় থেকে টেস্ট পিরিয়ডে মাপা সময় বাদ দিন | |
| মাসে বাঁচানো সময়ের মূল্য | মাসে বাঁচানো সময় × বেছে নেওয়া ঘণ্টাপ্রতি শ্রমের মূল্য | |
| মাসে এড়ানো প্রমাণিত ক্ষতি | টেস্টে দেখা ভুল বা ক্ষতি, যা সিস্টেমটি ঠেকাতে পারবে | |
| মাসিক প্রমাণিত লাভ | সময়ের মূল্য ও এড়ানো প্রমাণিত ক্ষতির যোগফল | |
| বার্ষিক প্রমাণিত লাভ | মাসিক প্রমাণিত লাভ × ১২ | |
| প্রথম বছরের খরচ | একবারের পরিবর্তন খরচ ও বার্ষিক নিয়মিত খরচের যোগফল | |
| পরবর্তী সময়ের বার্ষিক খরচ | শুধু বার্ষিক নিয়মিত খরচ | |
| প্রথম বছরের নিট ফল | বার্ষিক প্রমাণিত লাভ থেকে প্রথম বছরের খরচ বাদ দিন | |
| পরবর্তী সময়ের বার্ষিক নিট ফল | বার্ষিক প্রমাণিত লাভ থেকে পরবর্তী সময়ের বার্ষিক খরচ বাদ দিন |
আপনি একা কাজ করলে, ঘণ্টাপ্রতি শ্রমের যে মূল্য বেছে নিয়েছেন তা লিখে রাখুন। এটিকে আপনার অনুমান হিসেবে ধরুন, যাচাই করা নগদ সাশ্রয় হিসেবে নয়।
বেতনভুক্ত স্টাফের ক্ষেত্রে বাঁচানো কাজের সময়ের মূল্য নির্ধারণে আপনার পেরোল রেকর্ড ব্যবহার করুন। কোনো সময় খরচ কমায় না বা কাজে লাগার মতো অন্য কাজের সুযোগ তৈরি করে না—এমন হলে সেটি দুবার হিসাব করবেন না।
প্রথম বছর ও পরবর্তী সময়ের বার্ষিক খরচের সঙ্গে বার্ষিক লাভ আলাদাভাবে তুলনা করুন। এতে বোঝা যাবে, সেটআপ ও পরিবর্তনের খরচ প্রথম বছরের ফলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।
শুধু আপনার রেকর্ড বা টেস্ট পিরিয়ড দিয়ে প্রমাণিত সাশ্রয়ই হিসাব করুন। এই গাইডের জন্য পর্যালোচনা করা সোর্সগুলোতে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো খরচ উঠে আসার ফল বা অর্ডারের সীমা নেই।
POS সফটওয়্যার কেনার আগে bKash ও পেমেন্ট ইন্টিগ্রেশন কীভাবে যাচাই করবেন
একটি bKash অ্যাকাউন্ট, কিউআর কোড বা ট্রানজেকশন হিস্ট্রি থাকলেই প্রমাণ হয় না যে POS-টি bKash-এর সঙ্গে কানেক্ট হয়। কেনার আগে আপনার বাছাই করা প্ল্যান ব্যবহার করে ভেন্ডরকে পুরো পেমেন্ট প্রক্রিয়াটি দেখাতে বলুন।
অ্যাকাউন্ট আর POS কানেকশন আলাদা করে দেখুন
৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা bKash-এর মার্চেন্ট পেজে মার্চেন্ট অ্যাপ, মার্চেন্ট কিউআর ও কাউন্টার পেমেন্টের কথা আছে। সেখানে সার্বক্ষণিক কালেকশন ও ট্রানজেকশন হিস্ট্রির কথাও আছে। এগুলো bKash মার্চেন্টের ফিচার। এগুলো দিয়ে প্রমাণ হয় না যে কোনো নির্দিষ্ট POS এসব পেমেন্ট ইমপোর্ট, ম্যাচ বা রিকনসাইল করতে পারে।
POS ভেন্ডরকে লাইভে এই টেস্টগুলো করতে বলুন:
- একটি নির্দিষ্ট অর্ডারের বিপরীতে bKash পেমেন্ট রেকর্ড করতে বলুন।
- অর্ডার রেকর্ডের ভেতরে bKash ট্রানজেকশন রেফারেন্স দেখাতে বলুন।
- পরিবর্তনের হিস্ট্রি না লুকিয়ে ভুল এমাউন্ট ঠিক করতে বলুন।
- পুরো বা আংশিক রিফান্ড রেকর্ড করে রেকর্ডগুলো কীভাবে মিলে যায়, তা দেখাতে বলুন।
- সেলস, ক্যাশ ও প্রফিট রিপোর্টে পেমেন্ট ফি কোথায় দেখা যায়, তা দেখাতে বলুন।
- bKash ট্রানজেকশন হিস্ট্রির সঙ্গে POS-এর মোট হিসাব রিকনসাইল করতে বলুন।
- প্রিপেইড bKash অর্ডার থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) আলাদাভাবে রেকর্ড করতে বলুন।
- ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) অর্ডার রেকর্ড করার পর পার্সেল রিটার্ন হলে সেটি প্রসেস করতে বলুন।
Nagad বা অন্য যেকোনো পেমেন্ট গেটওয়ের জন্য আলাদা টেস্ট করুন। একটি কানেকশন কাজ করলেই প্রমাণ হয় না যে অন্য পেমেন্ট মেথডগুলোও একইভাবে কানেক্ট হয়।
| যা যাচাই করবেন | শুধু অ্যাকাউন্টের প্রমাণ | POS-এর যে প্রমাণ চাইবেন |
|---|---|---|
| পেমেন্ট পাওয়া | ওয়ালেট হিস্ট্রি বা কিউআর পেমেন্ট | সঠিক অর্ডারের সঙ্গে পেমেন্ট ম্যাচ করা হয়েছে |
| রেফারেন্স | ট্রানজেকশন রেফারেন্স আছে | রেফারেন্সটি POS-এ সেভ থাকে এবং সার্চ করে পাওয়া যায় |
| ফি | ওয়ালেটে ট্রানজেকশন দেখা যায় | POS-এ সংশ্লিষ্ট ফি সঠিকভাবে রেকর্ড হয় |
| রিফান্ড | অর্ডারের বাইরে রিফান্ড করা হয় | অর্ডার, পেমেন্ট ও রিফান্ডের রেকর্ড মিলে যায় |
| ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) রিটার্ন | কুরিয়ার বা ম্যানুয়াল রেকর্ড আছে | রিটার্ন হওয়া পার্সেলের কারণে পেমেন্ট ও অর্ডার স্ট্যাটাস আপডেট হয় |
| রিকনসিলিয়েশন | আলাদা মোট হিসাব দেখা যায় | ওয়ালেট রেকর্ডের সঙ্গে POS-এর মোট হিসাব মিলিয়ে দেখা যায় |
কোন bKash অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করবেন, তা যাচাই করুন
পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্টটি ক্ষুদ্র ও ছোট রিটেইল এবং এফ-কমার্স ব্যবসার জন্য। এই তথ্য ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা bKash-এর পেজ থেকে নেওয়া। ওই দিন দেখা bKash-এর আরেকটি পেজে বলা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও অনলাইন ব্যবসা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।
কাস্টমাররা কিউআর, bKash পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা USSD-এর মাধ্যমে ম্যানুয়ালি অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখে এই অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট করতে পারেন। bKash-এর পেজে বলা হয়েছে, লিমিট প্রযোজ্য। এই তথ্য দিয়েও প্রমাণ হয় না যে আপনার বাছাই করা POS এসব পেমেন্ট রুটের সঙ্গে কানেক্ট হয়। আপনি যে রুটগুলো ব্যবহার করতে চান, প্রতিটি ভেন্ডরকে দিয়ে টেস্ট করান।
অ্যাকাউন্টগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলনা করতে আমাদের bKash মার্চেন্ট ও পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট গাইড দেখুন।
৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্টের পেজে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য এসব শর্ত দেওয়া আছে:
- আবেদনকারীর NID।
- ওই NID-এর নামে রেজিস্টার করা এমন একটি মোবাইল নম্বর, যেটিতে আগে থেকে কোনো bKash অ্যাকাউন্ট খোলা নেই।
- সিমের মালিকানার প্রমাণ।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নমিনির NID।
নিজে রেজিস্ট্রেশন করতে bKash-এর পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন পেজ খুলুন। NID ভেরিফিকেশনের জন্য *16001# ডায়াল করে আপনার NID-এর শেষ চারটি ডিজিট দিন।
৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা একই পেজে বলা হয়েছে, অ্যাকাউন্টটি bKash মার্চেন্ট অ্যাপ বা *247# দিয়ে ব্যবহার করা যায়। সেখানে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত bKash অ্যাকাউন্টকে রিটেইল অ্যাকাউন্টে কনভার্ট করা যায় না। তাই রেজিস্ট্রেশন শুরুর আগে যোগ্য ও আগে ব্যবহার করা হয়নি—এমন একটি মোবাইল নম্বর প্রস্তুত রাখুন।
সাইন করার আগে চার্জ ও লিমিট আবার যাচাই করুন
৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেখা bKash-এর একটি পেজে পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্টের চার্জকে প্রোমোশনাল অফার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অফারটি চলবে। পেজটিতে কাস্টমার পেমেন্ট গ্রহণ এবং মার্চেন্ট পেমেন্ট গ্রহণ বিনা মূল্যে বলা হয়েছে। মার্চেন্ট পেমেন্ট করতে খরচ হয় ০.২০%, আর কাস্টমারকে টাকা পাঠাতে খরচ হয় ৳৫।
একই প্রোমোশনে বলা হয়েছে, প্রথম তিন মাসে ৳৫,০০০ পর্যন্ত ক্যাশ আউট বিনা মূল্যে করা যাবে। ভবিষ্যতের ব্যাংক ট্রান্সফার ধাপের চার্জ হিসেবেও ১.৩% দেওয়া আছে। ভবিষ্যতের এই সুবিধা ইতিমধ্যে চালু আছে ধরে নেবেন না।
ওই পেজে প্রতি ট্রানজেকশনে ৳৩০,০০০ এবং দৈনিক ৳৩০,০০০ পেমেন্ট গ্রহণের লিমিট দেওয়া আছে। মাসে পেমেন্ট গ্রহণের লিমিট ৳৫০০,০০০ এবং যেকোনো মুহূর্তে সর্বোচ্চ ব্যালেন্স ৳৫০০,০০০ বলা হয়েছে।
কেনার আগে bKash-এর বর্তমান শর্ত আবার যাচাই করুন, কারণ প্রোমোশনাল চার্জ ও লিমিট বদলাতে পারে। এরপর POS ভেন্ডর কোন কোন পেমেন্ট রুট সাপোর্ট করে, ফি কীভাবে হিসাব করে, রিফান্ডের প্রক্রিয়া এবং রিকনসিলিয়েশন পদ্ধতি—এসব লিখিতভাবে নিন।
স্টক বা অর্ডারের রেকর্ড না হারিয়ে Excel থেকে POS-এ যাওয়ার উপায়
নিয়ন্ত্রিত ধাপে ধাপে এগোন। যাচাই করা ব্যাকআপ রাখুন, পুরোপুরি বদলের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন এবং বদলের সময় রেকর্ড পরীক্ষা করুন।

-
স্প্রেডশিট গুছিয়ে ব্যাকআপ নিন। প্রোডাক্টের নাম, SKU এবং সাইজ বা কালারের মতো ভ্যারিয়েন্টের লেবেল একই নিয়মে লিখুন। কোনো কিছু এডিট, একসঙ্গে করা বা ইমপোর্ট করার আগে প্রতিটি স্প্রেডশিটের একটি অপরিবর্তিত কপি সেভ করুন।
সন্দেহজনক ডুপ্লিকেট সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট না করে চিহ্নিত করুন। অর্ডার ID, ফোন নম্বর, SKU, পেমেন্ট রেফারেন্স, পার্সেল স্লিপ, Messenger মেসেজ এবং সোর্স ফাইল মিলিয়ে দেখুন। কাছাকাছি নাম আলাদা কাস্টমারের হতে পারে, আবার একই প্রোডাক্ট বা অর্ডার একাধিকবার থাকাও সঠিক হতে পারে।
কাস্টমার বা প্রোডাক্টের ডুপ্লিকেট রেকর্ড নিশ্চিত হলে সেগুলোর আগের হিস্ট্রি রেখে একসঙ্গে করতে পারেন। কোনো অর্ডার ডুপ্লিকেট বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কখনো ডিলিট করবেন না। আগে এর সঙ্গে যুক্ত পেমেন্ট, স্টক মুভমেন্ট, কুরিয়ার বুকিং এবং COD সেটেলমেন্টের রেকর্ড রেখে দিন।
-
পুরোপুরি বদলের নিয়ম ঠিক করুন। ঠিক কোন তারিখ ও সময় থেকে POS-কে মূল রেকর্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন, তা বেছে নিন। বাস্তবে স্টক গোনার সময় বিক্রি, ক্যানসেল, রিটার্ন, কেনাকাটা, এক্সচেঞ্জ এবং স্টক অ্যাডজাস্টমেন্ট কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন, তা ঠিক করুন।
সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো স্টক গোনা ও পরিমাণ ইমপোর্ট করার সময় স্টক বদলায় এমন কাজ বন্ধ রাখা। কাজ বন্ধ রাখতে না পারলে, গোনার পরের প্রতিটি মুভমেন্ট আলাদা কাটওভার লগে লিখে রাখুন। POS-কে মূল রেকর্ড করার আগে ওই মুভমেন্টগুলো প্রয়োগ করুন।
কাটওভারের পরপরই প্রভাবিত প্রতিটি SKU ও ভ্যারিয়েন্টের হিসাব মেলান বা আবার গুনুন। চলমান প্রতিটি ওপেন অর্ডার, COD পার্সেল, এক্সচেঞ্জ এবং রিটার্ন কোন সিস্টেমে রাখা আছে, সেটিও লিখে রাখুন।
-
সীমিত পরিসরে পাইলট শুরু করুন। বাছাই করা কিছু প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন বা প্রথমে একজন স্টাফকে দিয়ে অর্ডার প্রসেস করান। পার্সেল স্লিপ, পেমেন্ট রেকর্ড, Messenger-এর অর্ডার এবং হাতে থাকা স্টকের সঙ্গে স্টক মুভমেন্ট, অর্ডার ও পেমেন্ট মিলিয়ে দেখুন। পাইলটের পরিসর বাড়ানোর আগে প্রতিটি অমিল ঠিক করুন।
-
অননুমোদিত সমান্তরাল রেকর্ড দ্রুত বন্ধ করুন। যাচাইয়ের জন্য পুরোনো স্প্রেডশিটটি রাখুন, তবে কাটওভারের পর সেটি শুধু পড়ার উপযোগী করুন। স্প্রেডশিট ও POS-কে আলাদা আলাদা এডিট করা যায় এমন মূল রেকর্ডে পরিণত হতে দেবেন না। কাটওভারের পর প্রতিটি সংশোধন স্পষ্ট কারণসহ POS-এ রেকর্ড করুন।
-
বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে নিয়ন্ত্রণ ঠিক করুন। কে স্টক বদলাতে, অর্ডার ক্যানসেল করতে, দাম এডিট করতে বা রিপোর্ট দেখতে পারবেন, তা ঠিক করুন। নষ্ট পণ্য, স্টক না মেলা, এক্সচেঞ্জ ও রিটার্নের জন্য নির্দিষ্ট অ্যাডজাস্টমেন্টের কারণ এবং অনুমোদনের নিয়ম তৈরি করুন। সবাইকে একই ওয়ার্কফ্লোর প্রশিক্ষণ দিন, তারপর সফটওয়্যারের সমস্যা কীভাবে জানানো ও সমাধান করা হবে, তা লিখে রাখুন।
-
রিকভারি ও কুরিয়ারের ওয়ার্কফ্লো পরীক্ষা করুন। প্রোডাক্ট, কাস্টমার, অর্ডার এবং স্টক অ্যাডজাস্টমেন্ট এক্সপোর্ট করুন। এক্সপোর্ট করা ফাইল খুলে নিশ্চিত করুন যে প্রোডাক্টের তথ্য, অর্ডারের হিস্ট্রি, পরিমাণ এবং রেফারেন্স ব্যবহারযোগ্য আছে। ক্যানসেল করার শর্তগুলো পড়ুন এবং সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে বা আপনি সেটি ছেড়ে দিলে আপনার ডেটা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা জিজ্ঞেস করুন।
বিজ্ঞাপিত যেকোনো কুরিয়ার সার্ভিস ইন্টিগ্রেশন-এর পুরো প্রক্রিয়া নিজে পরীক্ষা করুন। একটি পার্সেল বুক করুন, এর ট্র্যাকিং রেফারেন্স সেভ করুন, ডেলিভারড স্ট্যাটাস দেখুন, COD সেটেলমেন্ট মিলিয়ে নিন এবং একটি রিটার্ন প্রসেস করুন। রিটার্ন হওয়া স্টক কীভাবে এবং কখন POS-এ আবার বিক্রির জন্য পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করুন। আপনার পাইলটে কোনো ধাপ কাজ না করা পর্যন্ত ধরে নেবেন না যে কানেকশনটি সেই ধাপের কাজ করে।
চূড়ান্ত কাটওভারের আগে স্টক গোনা, মুভমেন্ট লগ, ওপেন অর্ডার, অমীমাংসিত রিটার্ন, ব্যবহারযোগ্য এক্সপোর্ট এবং বাকি প্রতিটি সমস্যার দায়িত্ব কার—এসব নিয়ে স্বাক্ষর করা একটি চেকলিস্ট রাখুন।
POS নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ওয়ার্কশিট ব্যবহার করুন
তিনটি পথের মধ্যে একটি বেছে নিতে পূরণ করা ওয়ার্কশিটটি ব্যবহার করুন। কোনো ডেমো দেখে চমৎকার মনে হয়েছে বলেই সিদ্ধান্ত বদলাবেন না।
সিদ্ধান্তের ছক
| সিদ্ধান্ত | কখন এটি বেছে নেবেন | এরপর কী করবেন |
|---|---|---|
| Excel-এই থাকুন | আপনার স্প্রেডশিটে জরুরি কাজগুলো করা যায় এবং পরীক্ষা করা কোনো অপশনই তার খরচ ও কাজের ব্যাঘাতের তুলনায় যথেষ্ট সুবিধা দেয় না। | ওয়ার্কশিটে আগে থেকেই লেখা স্প্রেডশিটের নির্দিষ্ট দুর্বলতাগুলো ঠিক করুন। |
| অন্য একটি সিস্টেম পরীক্ষা করুন | গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো এখনো পরীক্ষা করা হয়নি, পরিষ্কার নয় বা বিক্রয়কর্মীর মুখের কথার ওপর নির্ভরশীল। | একই চাহিদা ধরে উপযুক্ত আরেকটি POS, ইনভেন্টরি বা অর্ডার-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরীক্ষা করুন। |
| সিস্টেম বদলান | একটি সিস্টেম প্রতিটি জরুরি চাহিদা পূরণ করে, মোট খরচ গ্রহণযোগ্য এবং আপনার দোকান বদলের জন্য প্রস্তুত। | মাইগ্রেশনের পরিকল্পনা করুন, দায়িত্ব ঠিক করে দিন এবং পুরোনো রেকর্ড যাচাই করার জন্য Excel চালু রাখুন। |
বেছে নেওয়া পথটি ওয়ার্কশিটের ওপরে চিহ্নিত করুন। পাশে আপনার সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকা প্রমাণ লিখুন। প্রতিটি জরুরি চাহিদার জন্য পাস করেছে, ব্যর্থ হয়েছে বা যাচাই করা হয়নি লিখুন। কার্যকর পরীক্ষা বা লিখিত নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো প্রতিশ্রুতিকে যাচাই করা হয়নি হিসেবেই রাখুন।
ভালো সামগ্রিক স্কোরের মধ্যে ব্যর্থ হওয়া কোনো জরুরি চাহিদা লুকাবেন না। রিটার্নের পর সঠিক স্টক থাকা জরুরি হলে, সেখানে ব্যর্থতা সিস্টেম বদলানো থামিয়ে দিতে পারে। শুধু কাজে লাগতে পারে এমন ফিচার যেন প্রতিদিনের অর্ডার সামলানোর ব্যর্থতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব না পায়।
উত্তর এখনো পরিষ্কার না হলে অন্য একটি সিস্টেম পরীক্ষা করুন বেছে নিন। ঠিক কোন বিষয়টি অনিশ্চিত এবং কোন প্রমাণে সেটি নিশ্চিত হবে, তা লিখুন। এতে শেষ না হওয়া খোঁজাখুঁজির বদলে আপনার পরের কাজটি পরিষ্কার হবে।
সবশেষে, সিদ্ধান্তের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে তারিখসহ ওয়ার্কশিটটি সংরক্ষণ করুন। আপনার অর্ডার প্রক্রিয়া, টিম, পণ্যের পরিসর বা পরিচালনার প্রয়োজন বদলালে এটি আবার খুলে দেখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
Facebook ইনবক্স, ওয়েবসাইট ও কুরিয়ারের অর্ডার কি একই জায়গায় রাখা যাবে?
সম্ভব হতে পারে, তবে সরাসরি পরীক্ষা না করে ধরে নেবেন না যে সব অর্ডার একই রেকর্ডে থাকবে। একটি Facebook ইনবক্স অর্ডার ও একটি ওয়েবসাইট অর্ডার তৈরি করতে বলুন। এরপর কুরিয়ার বুকিং, ট্র্যাকিং রেফারেন্স, ক্যাশ অন ডেলিভারি সংগ্রহ, বাতিল ও রিটার্ন সেই অর্ডার রেকর্ডে দেখা যায় কি না পরীক্ষা করুন। শুধু ড্যাশবোর্ড, লোগো বা “অটোমেশন” লেখা প্রমাণ নয়।
আমার Excel-এর প্রোডাক্ট, কাস্টমার, স্টক ও বিক্রির রেকর্ড কি পিওএসে ইমপোর্ট করা যাবে?
ইমপোর্ট করা যেতে পারে, কিন্তু ভেন্ডরকে স্যাম্পল ফাইল দিয়ে ফল যাচাই করতে হবে। মূল Excel ফাইল অপরিবর্তিত রেখে একটি কপি দিন। ইমপোর্ট শেষে রোয়ের সংখ্যা, ওপেনিং স্টক, বাংলা লেখা, প্রোডাক্ট ভ্যারিয়েন্ট, কাস্টমার ও অর্ডার স্ট্যাটাস মিলিয়ে দেখুন। বাদ পড়া রো ও অনুপস্থিত ফিল্ডের রিপোর্ট নিন। সংশোধিত ফাইল আবার ইমপোর্ট করলে ডুপ্লিকেট তৈরি হয় কি না, তাও পরীক্ষা করুন।
শুধু ফোন দিয়ে পিওএস চালাতে পারব, আর ইন্টারনেট বন্ধ হলে কী হবে?
এটি সফটওয়্যারভেদে বদলায়, তাই নিজের ফোন ও বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট দিয়ে ট্রায়াল করতে হবে। অর্ডার এন্ট্রি, সার্চ, ভ্যারিয়েন্ট বাছাই, পেমেন্ট ও রিটার্নের প্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার করে দেখুন। ইন্টারনেট বন্ধ করে একটি নিরাপদ স্যাম্পল ট্রানজ্যাকশন চালান। সংযোগ ফেরার পর অসম্পূর্ণ বা ডুপ্লিকেট ট্রানজ্যাকশন তৈরি হয়েছে কি না দেখুন। কম্পিউটার, স্ক্যানার বা প্রিন্টার বাধ্যতামূলক কি না লিখিতভাবে জেনে নিন।
এক সিস্টেমে bKash, Nagad, ক্যাশ অন ডেলিভারি পেমেন্ট ও রিটার্ন হওয়া পার্সেল রাখা যাবে?
রাখা সম্ভব কি না, সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হবেন না। প্রতিটি পেমেন্ট পদ্ধতিতে স্যাম্পল অর্ডার রেকর্ড করুন এবং পরিশোধিত, অপরিশোধিত ও না-মেলা স্ট্যাটাস পরিষ্কার দেখা যায় কি না দেখুন। এরপর ক্যাশ অন ডেলিভারি রিটার্ন, আংশিক পেমেন্ট ও রিফান্ড চালিয়ে অর্ডার, স্টক, পেমেন্ট ও কুরিয়ারের সংগ্রহ মিলছে কি না যাচাই করুন। আলাদা ওয়ালেট ট্রানজ্যাকশন হিস্ট্রি থাকলেই পিওএস ইন্টিগ্রেশন প্রমাণ হয় না।
আমার অর্ডার কম হলে Excel ছেড়ে পিওএস সফটওয়্যার নেওয়া কি লাভজনক হবে?
এই গাইডের জন্য দেখা সোর্সগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো অর্ডার-সংখ্যার সীমা নির্ধারণ করে না। একজন মানুষ যদি স্টক, অর্ডার ও পেমেন্টের রেকর্ড ঠিকভাবে সামলাতে পারেন, তাহলে Excel রাখুন। সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবসার স্বাভাবিক সময়কালে বারবার এন্ট্রি, সংশোধনের সময়, স্টকের চেয়ে বেশি বিক্রি, বাদ পড়া অর্ডার ও পেমেন্টের অমিল লিখে রাখুন। ট্রায়ালে পিওএস এসব সমস্যা কমায় কি না এবং দেখানো সুবিধা মোট খরচের তুলনায় গ্রহণযোগ্য কি না, তা তুলনা করুন।
সাবস্ক্রিপশনের বাইরে সেটআপ, ট্রেনিং বা অতিরিক্ত ইউজার ফি থাকতে পারে কি?
থাকতে পারে, তাই শুধু সাবস্ক্রিপশনের দাম দেখে মোট খরচ ধরে নেবেন না। ভেন্ডরের কাছ থেকে খাতভিত্তিক লিখিত কোটেশন নিন। সেখানে সেটআপ, Excel পরিষ্কার করা, ইমপোর্ট, ট্রেনিং, অতিরিক্ত ইউজার, সাপোর্ট, আপগ্রেড, হার্ডওয়্যার, ইন্টিগ্রেশন, ট্যাক্স, সীমার অতিরিক্ত অর্ডার, বাতিল করা ও ডেটা এক্সপোর্ট আলাদাভাবে লিখতে বলুন। প্রতিটি বিষয় নিশ্চিত, অন্তর্ভুক্ত নয় বা উত্তর দেওয়া হয়নি হিসেবে রাখুন; মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে নিশ্চিত খরচ হিসেবে ধরবেন না।
তথ্যসূত্র
অন্য কোম্পানি নিয়ে যে সংখ্যা বা দাবি আছে, তা নাম দেওয়া পেজ থেকে নেওয়া। দেখানো তারিখে পেজে যা লেখা ছিল, তা-ই।
- hishabee.io (hishabee.io) · পড়া হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬
- blog.hishabee.io (blog.hishabee.io) · পড়া হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬
- storex.com.bd (storex.com.bd) · পড়া হয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৬
- bkash.com (bkash.com) · পড়া হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬
- bkash.com (bkash.com) · পড়া হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬
- account.bkash.com (account.bkash.com) · পড়া হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬
- bkash.com (bkash.com) · পড়া হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬