বাংলাদেশি সেলারদের জন্য ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার: “ফ্রি”-তে কী থাকে
“ফ্রি ওয়েবসাইট” একেক বিল্ডারে একেক জিনিস। কোথাও মানে ১৫টা প্রোডাক্ট, কোথাও প্রতিটা অর্ডারের ৫%, কোথাও এমন ওয়েবসাইট যেটায় অর্ডারই নেওয়া যায় না। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রতিটা বিল্ডারের নিজের পেজে যা ছিল, সেই অনুযায়ী নিচে দিলাম বাংলাদেশি সেলারের জন্য খোলা প্রতিটা ফ্রি উপায়ে কী থাকে, আর সীমা পার হলে খরচ কত।
১. ফেসবুক শপ এর মধ্যে নেই
অনেক সেলার ধরে নেন ফ্রি উপায় হলো ফেসবুক পেজের শপ ট্যাব। ২০২৩ সালে মেটা যেসব দেশে ফেসবুক বা Instagram পেজে শপ রাখার সুযোগ রেখেছিল, তার তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না, আর পোস্টে প্রোডাক্ট ট্যাগ করার সুযোগও তার সঙ্গে চলে গেছে। মেটা এরপর তালিকা না বদলে থাকলে, ক্যাটালগ দেখাতে বাংলাদেশি পেজের নিজের একটা ওয়েবসাইট লাগে।
২. Zatiq
Zatiq-এর হোমপেজের কাউন্টারে প্রায় ৫৫,০০০ অ্যাকটিভ শপ দেখায়। ফ্রি প্ল্যানে ২০টা প্রোডাক্ট, যার ১০টা আপনার নিজের আর ১০টা সাপ্লায়ারের রিসেল প্রোডাক্ট, সঙ্গে দুটো প্রিসেট থিম, আর প্রতিটা ফিজিক্যাল প্রোডাক্টের অর্ডার থেকে ৫% নেয় (ডিজিটাল প্রোডাক্টে ১০%, রিসেলে ৩%)। ফি তুলতে লাগে মাসে ৳৫৯৯-এর Starter প্ল্যান, যাতে সীমাও বেড়ে ৫০০ প্রোডাক্ট হয়; Pro ৳১,০৯৯, Growth ৳২,৪৯৯। নিজের ডোমেইনের জন্য পেইড প্ল্যান লাগে।
হিসাব করার সংখ্যা হলো ৫%। মাসে ৳২,০০,০০০-এর অর্ডারে সেটা ৳১০,০০০ — যেকোনো পেইড প্ল্যানের চেয়ে অনেক বেশি।
৩. Klytosell
নো-কোড বাংলাদেশি বিল্ডার, যার ফ্রি প্ল্যান চিরকাল ফ্রি, সাবডোমেইনে, ১৫টা পর্যন্ত প্রোডাক্ট আর বিক্রিতে কোনো কমিশন নেই। মাসে ৳২৫০-এর Basic-এ ৫০টা প্রোডাক্ট আর নিজের ডোমেইন; Standard ৳৫৯৯-এ ২০০টা প্রোডাক্ট, Premium ৳৯৯৯-এ ১০,০০০টা।
৪. Funnelliner
ওয়েবসাইট আর সেলস ফানেল বিল্ডার, দাম প্রোডাক্টে নয়, অর্ডারে। মাসে ২০টার কম অর্ডারের দোকানের জন্য Basic প্ল্যান ফ্রি; Startup মাসে ৳৯০০, ৫০০ অর্ডার পর্যন্ত, আর এরপর অর্ডার বাড়লে দামও বাড়ে। পেজ ইনবক্সের জন্য AI চ্যাটবট “শিগগির আসছে” বলে লেখা আছে।
৫. বিদেশি বিল্ডারগুলো
Wix-এর ফ্রি প্ল্যান আছে, কিন্তু তাতে বিক্রি করা যায় না: অর্ডার নেওয়া শুরু Core প্ল্যান থেকে, Website Builder Expert-এর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের রিভিউ অনুযায়ী আমেরিকায় বছরে একসাথে দিলে মাসে $২৯, আর Wix বলে দাম জায়গাভেদে আলাদা। WordPress.com-এর ফ্রি প্ল্যানে প্লাগইন ইনস্টল করা যায় না, তাই WooCommerce চলে না। Shopify-র কোনো ফ্রি প্ল্যান নেই, আছে তিন দিনের ট্রায়াল আর তারপর তিন মাস মাসে $১। Ecwid ফ্রি প্ল্যান তুলে দিয়েছে; সবচেয়ে সস্তাটা মাসে $৫, ১০টা প্রোডাক্টের জন্য।
৬. ফ্রি, কিন্তু ঠিক দোকানের ওয়েবসাইট নয়
Google Sites-এ খরচ নেই, কিন্তু কার্ট বা চেকআউট নেই, তাই প্রতিটা অর্ডার শেষে আপনার ইনবক্সেই আসে। WhatsApp Business অ্যাপে ৫০০টা পর্যন্ত আইটেমের ক্যাটালগ রাখা যায়, যা কাস্টমার WhatsApp-এর ভেতরেই দেখতে পান — কাজের জিনিস, কিন্তু এটা এমন ওয়েবসাইট নয় যার লিংক বায়োতে দেওয়া যায় বা গুগলে খুঁজে পাওয়া যায়। Google Business Profile দিয়ে বানানো ওয়েবসাইট ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে গেছে।
৭. শুরু থেকেই পেইড
DeshiCommerce (মাসে ৳৫০০ থেকে), Bitcommerz (মাসে ৳১,২৯৯ থেকে) আর SeloraX (মাসে ৳১,৪৯৯ থেকে) ফ্রি প্ল্যানের বদলে ফ্রি ট্রায়াল দেয়, আর StoreX (বছরে ৳১১,৮৮০ থেকে, অথবা দুই বছরের জন্য এককালীন ৳৫,০০০-এর অফার) কোনোটাই দেখায় না। এগুলো তুলনা করার সময় হলো যখন টাকা দিতে তৈরি, শুরুর সময় নয়।
৮. ফ্রি বিল্ডার কীভাবে বাছবেন
একটা প্রোডাক্টও আপলোড করার আগে চারটা জিনিস দেখুন। কয়টা প্রোডাক্ট রাখা যায়, আর তার কয়টা আপনার নিজের? প্রতিটা অর্ডার থেকে কি ভাগ নেয়, নিলে কত? পরে নিজের ডোমেইনে যাওয়া যায় কি, আর তাতে খরচ কত? আর অর্ডার আপনার কাছে পৌঁছায় কোথায়: চ্যাটে যেখানে অর্ডার নেন তার পাশেই, নাকি আলাদা একটা ড্যাশবোর্ডে যেটা খুলতে মনে রাখতে হয়?
শেষেরটা যতটা মনে হয় তার চেয়ে জরুরি। ফেসবুক শপের বেশিরভাগ অর্ডার আসে Messenger-এ। যে ওয়েবসাইটের অর্ডার আর স্টক অন্য কোথাও থাকে, তাতে স্টকের হিসাব হয় দুটো — আর দুটো হিসাব থাকলেই একই শেষ পিস দুইবার বিক্রি হয়।
Sells Pilot-এ দোকানের ওয়েবসাইট প্রতিটা প্ল্যানে থাকে, ফ্রি প্ল্যানেও, প্রোডাক্টের কোনো সীমা নেই আর অর্ডারে কোনো কমিশন নেই। এটা তৈরি হয় সেই ক্যাটালগ থেকে, যেখান থেকে আপনার Messenger আর Instagram অ্যাসিস্ট্যান্ট উত্তর দেয়, তাই ওয়েবসাইটের অর্ডার আর চ্যাটের অর্ডার একই স্টক থেকে যায় আর একই অর্ডারের তালিকায় আসে। দোকানটা থাকে আমাদের এখানে তার নিজের একটা ঠিকানায়; নিজের কেনা ডোমেইন ব্যবহারের সুবিধা এখনো চালু হয়নি।
আরও গাইড
- The Ultimate Guide to Meta Conversions API (CAPI) for E-commerce
- অনলাইন শপের ফেসবুক পেজ বায়ো: কী লিখবেন, উদাহরণসহ
- বাংলাদেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে (২০২৬)
- বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে গাইড (২০২৬)
- বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া: ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করা যায় এমন ১২টি (২০২৬)