অনলাইন শপের ফেসবুক পেজ বায়ো: কী লিখবেন, উদাহরণসহ
নতুন কেউ পেজে এসে প্রথমে যা পড়েন, বায়ো তার একটা, অথচ অনেক শপ এটা একটা স্লোগানে খরচ করে ফেলে। শপের বায়োর কাজ একটাই: অচেনা কাউকে এক-দুই বাক্যে জানানো আপনি কী বিক্রি করেন, কার জন্য, কোথায় ডেলিভারি দেন আর কীভাবে অর্ডার করবেন। এখানে আছে বায়োতে কী রাখবেন, নানা ধরনের শপের জন্য বাংলা ও ইংরেজি উদাহরণ, আর যে ভুলগুলোতে অর্ডার হাতছাড়া হয়।
শপের বায়োতে যে চারটা কথা থাকতেই হবে
আপনি কী বিক্রি করেন, সেই শব্দে যা কাস্টমার নিজে সার্চ করবেন: “থ্রি-পিস আর কুর্তি”, “এথনিক এলিগ্যান্স” নয়। কার জন্য, যদি তাতে পরিষ্কার হয়: মেয়েদের, বাচ্চাদের, নতুন মায়েদের, জিমে যান এমন মানুষের। কোথায় ডেলিভারি দেন: সারা বাংলাদেশে, শুধু ঢাকার ভেতরে, নাকি একটা শহরে। আর কীভাবে অর্ডার করবেন: পেজে মেসেজ দিয়ে, পোস্টে কমেন্ট করে, নাকি ওয়েবসাইট থেকে।
যা আপনাকে আলাদা করে আর প্রতিবার সত্যি, সেটা যোগ করুন: ক্যাশ অন ডেলিভারি, ঢাকার ভেতরে পরদিন ডেলিভারি, অর্ডার দিলে বানানো, 4XL পর্যন্ত সাইজ। যা মাঝে মাঝে করেন, তা বাদ দিন। “পরদিন ডেলিভারি” পড়ে যে কাস্টমার চার দিন অপেক্ষা করেন, তিনি সেটা নিয়েই রিভিউ লেখেন।
জরুরি কথাগুলো আগে
মানুষ বায়ো পড়েন এক নজরে, বেশিরভাগ সময় ফোনে, তাই শুরু করুন কী বিক্রি করেন দিয়ে আর শেষ করুন কীভাবে অর্ডার করবেন দিয়ে। এক-দুইটা ছোট বাক্যই যথেষ্ট; বাকি খুঁটিনাটি থাকুক পোস্টে আর ওয়েবসাইটে।
নিজের মতো করে নেওয়ার মতো উদাহরণ
মেয়েদের পোশাক: “থ্রি-পিস, কুর্তি আর শাড়ি, সাইজ ৩৬ থেকে ৪৬। সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি। অর্ডার করতে মেসেজ দিন।”
ছেলেদের পোশাক: “ছেলেদের পাঞ্জাবি আর শার্ট, সাইজ M থেকে 3XL। ৩ দিনের মধ্যে ফ্রি সাইজ বদল। সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি।”
কসমেটিকস আর স্কিন কেয়ার: “স্কিন কেয়ার আর মেকআপ, প্রতিটা পোস্টে ব্যাচ নম্বর আর মেয়াদের তারিখসহ। সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি। Messenger-এ অর্ডার করুন।”
ঘরে বানানো খাবার: “মিরপুরে আমাদের রান্নাঘরে বানানো আচার, কেক আর ফ্রোজেন স্ন্যাকস। শুধু ঢাকার ভেতরে ডেলিভারি; এক দিন আগে অর্ডার করুন।”
গ্যাজেট আর ফোনের এক্সেসরিজ: “ফোন কভার, চার্জার আর ইয়ারফোন, পাঠানোর আগে প্রতিটা পরীক্ষা করা। ৭ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি। সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি।”
হস্তশিল্প: “যশোরের কারিগরদের হাতে বানানো নকশিকাঁথা আর মাটির জিনিস। প্রতিটা জিনিস একটাই। যেটা পছন্দ, সেটার জন্য মেসেজ দিন।”
বাচ্চাদের পোশাক: “০ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের নরম সুতির পোশাক। সারা বাংলাদেশে ডেলিভারি। প্রতিটা পোস্টে সাইজ চার্ট।”
বই: “নতুন আর পুরোনো বই, সারা বাংলাদেশে পাঠাই। বইয়ের নাম বলুন, আমরা খুঁজে দেব।”
বাংলায়, ইংরেজিতে, নাকি দুটোতেই
কাস্টমাররা আপনাকে যে ভাষায় লেখেন, বায়ো সেই ভাষায় লিখুন। একটা বাংলা লাইনের পরে একটা ইংরেজি লাইনও চলে। মেয়েদের পোশাকের উদাহরণটা ইংরেজিতে: “Three-pieces, kurtis and saris in sizes 36 to 46. Delivery all over Bangladesh, cash on delivery. Message us to order.”
যে ভুলগুলোতে অর্ডার হাতছাড়া হয়
প্রোডাক্টের বদলে স্লোগান। “আপনার স্টাইল, আপনার পছন্দ” যেকোনো শপের হতে পারে, আর এক নজরে আপনি কী বিক্রি করেন বুঝতে না পারলে ভিজিটর চলে যান।
“দাম জানতে ইনবক্স করুন।” এতে প্রত্যেক কাস্টমারকে জিজ্ঞেস করতে হয়, দামটা তাঁর সাধ্যে কুলাবে কি না জানার আগেই। প্রতিটা পোস্টে দাম দিন, আর বায়োতে লিখুন কীভাবে অর্ডার করবেন।
যা প্রমাণ করতে পারবেন না এমন দাবি। “১০০% অরিজিনাল”, “বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দাম” আর “সেরা মান” প্রায় সব পেজেই লেখা থাকে, আর প্রতিটা দাবিই প্রমাণের প্রশ্ন তোলে। কাস্টমার নিজে যাচাই করতে পারেন এমন কিছু, যেমন প্রতিটা পোস্টে মেয়াদের তারিখ বা রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি, বেশি কাজ করে।
পোস্টের নম্বরের সঙ্গে না মেলা ফোন নম্বর, বা এমন নম্বর যেটা কেউ ধরেন না। সব জায়গায় একটাই নম্বর দিন, আর কেউ ফোন ধরবেন এমন হলেই দিন।
ইংরেজিতে সব বড় হাতের অক্ষর আর সারি সারি ইমোজি। এতে বায়ো পড়া কঠিন হয়, চোখে পড়া সহজ হয় না। ডেলিভারি বা অর্ডার বোঝাতে একটা ইমোজিই যথেষ্ট।
পেজের বাকি ঘরগুলোও পূরণ করুন
ভিজিটর শুধু বায়োই দেখেন না। যা বিক্রি করেন তার সঙ্গে মেলে এমন ক্যাটাগরি বেছে নিন, পোস্টের নম্বরটাই ফোন নম্বর হিসেবে দিন, আর এমন একটা লিংক দিন যেখানে কাস্টমার প্রতিটা প্রোডাক্ট দামসহ দেখতে পান। দোকান বা পিকআপ পয়েন্ট থাকলে তার ঠিকানা দিন; না থাকলে বাসার ঠিকানা না দিয়ে ঘরটা খালি রাখুন।
কিছু বদলালে বায়োও বদলান
ঈদের আগে অর্ডারের শেষ দিন জানিয়ে, নতুন কালেকশন এলে, আর কোথাও ডেলিভারি শুরু বা বন্ধ করলে বায়ো আপডেট করুন। মাসের পর মাস “ঈদের অর্ডার বন্ধ” লেখা থাকলে কাস্টমার বোঝেন পেজটা কেউ দেখাশোনা করেন না।
বায়োর লিংকের জন্য Sells Pilot দোকানকে sellspilot.com-এ নিজের ঠিকানায় একটা ফ্রি ওয়েবসাইট দেয়, যেখানে প্রতিটা প্রোডাক্টের দাম দেখা যায় আর অর্ডার করা যায়, আর একটা অ্যাসিস্ট্যান্ট দেয় যে একই ক্যাটালগ থেকে আপনার Messenger আর Instagram-এর মেসেজের উত্তর দেয়, তারপর অর্ডার নেয়।
আরও গাইড
- The Ultimate Guide to Meta Conversions API (CAPI) for E-commerce
- বাংলাদেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে (২০২৬)
- বাংলাদেশি সেলারদের জন্য ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার: “ফ্রি”-তে কী থাকে
- বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে গাইড (২০২৬)
- বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া: ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করা যায় এমন ১২টি (২০২৬)