বাংলাদেশে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে (২০২৬)
ঢাকার তিনটা ওয়েব এজেন্সিকে জিজ্ঞেস করুন একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কত খরচ, তিনটা উত্তর পাবেন — দশ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মধ্যে। তিনটাই সৎ হতে পারে, কারণ তারা আলাদা আলাদা জিনিসের দাম বলছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশি এজেন্সি, ডোমেইন রেজিস্ট্রার আর হোস্টিং কোম্পানির, আর Shopify, WooCommerce ও থিম বিক্রেতাদের নিজেদের পেজে যে দাম ছিল (Wix-এর আমেরিকার দাম একটা নাম-উল্লেখ করা রিভিউ থেকে), তা দিয়ে নিচে প্রতিটা অংশের খরচ দিলাম — যাতে ন্যায্য কোটেশন আর বাড়িয়ে বলা কোটেশন আলাদা করতে পারেন, আর বুঝতে পারেন কাস্টম ওয়েবসাইট আদৌ লাগবে কিনা।
১. এজেন্সি দিয়ে বানালে কত
বাংলাদেশি এজেন্সির প্যাকেজ ই-কমার্স ওয়েবসাইট শুরু হয় মোটামুটি ৳১০,০০০ থেকে ৳১২,০০০-এ: WebTech-এর স্টার্টার ই-কমার্স প্যাকেজ ৳১১,৯৯৯, আর bdstall-এর লিস্টিং শুরু ৳১০,০০০ থেকে। ছোট দোকানকে যেসব প্যাকেজ সাধারণত অফার করা হয়, সেগুলো ৳২৫,০০০ থেকে ৳৫০,০০০-এর মধ্যে। যেমন ZAMAN IT-এ WordPress স্টোর ৳২৫,০০০, Laravel ৳৩৫,০০০ আর Next.js ৳৫০,০০০ — প্রতিটাতেই ডোমেইন আর হোস্টিং আলাদা।
একটা বাংলাদেশি এজেন্সির ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত গাইড বলছে, প্রায় একশ প্রোডাক্টের একটা WooCommerce স্টোর ঠিকভাবে বানাতে ৳৫০,০০০ থেকে ৳১,০০,০০০ লাগে; পেমেন্ট গেটওয়ে জুড়তে আরও ৳১০,০০০ থেকে ৳২৫,০০০, আর কুরিয়ার জুড়তে ৳৫,০০০ থেকে ৳১৫,০০০। বড় কাস্টম ওয়েবসাইট বা ERP-সহ স্টোর এক লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত যায়।
সস্তা আর দামি কোটেশনের তফাত সাধারণত শুধু মানের নয়। জিজ্ঞেস করুন দামের মধ্যে কী আছে: কয়টা প্রোডাক্ট ওরা আপলোড করে দেবে, bKash আর কুরিয়ার জোড়া কি দামের মধ্যে, আপডেটে চেকআউট নষ্ট হলে কে ঠিক করবে, আর ডোমেইন-হোস্টিং আপনার নামে না এজেন্সির নামে।
২. ডোমেইন
বাংলাদেশি রেজিস্ট্রার থেকে একটা .com বছরে প্রায় ৳১,৭৫০ থেকে ৳১,৮৫০: DianaHost-এ ৳১,৭৫০, আর Alpha Net-এ রেজিস্ট্রেশন ৳১,৭৯৫, রিনিউ ৳১,৮৪০। কিছু এজেন্সি একই জিনিসের জন্য ৳৩,০০০ নেয়।
BTCL থেকে .com.bd ২০২৬ সালের জানুয়ারির দাম কমানোর পর থেকে বছরে ৳৭০০, সঙ্গে ভ্যাট; খবরে বলা হয়েছিল এই দাম সীমিত সময়ের জন্য। রিনিউ ৳১,০২০, আর রিসেলাররা এর চেয়ে বেশি নেয়।
ডোমেইন নিজের নামে, নিজের ইমেইল দিয়ে রেজিস্টার করুন। এজেন্সি যে ডোমেইন আপনার হয়ে রাখে, সেটা একদিন আপনাকে চেয়ে ফেরত নিতে হবে।
৩. হোস্টিং
বাংলাদেশি কোম্পানির সবচেয়ে ছোট শেয়ারড হোস্টিং বছরে প্রায় ৳১,০০০ থেকে ৳২,০০০: DianaHost ৳৯৯৯ থেকে, Alpha Net ৳১,৮৯৫ থেকে। কয়েকশ প্রোডাক্টের ছবিওয়ালা দোকানের আরও জায়গা লাগে, আর ৫ থেকে ১০ GB-র প্ল্যান বছরে প্রায় ৳৪,৯০০ থেকে ৳৬,০০০।
সস্তা হোস্টিংই সাধারণত দোকানের ওয়েবসাইট ধীর হওয়ার কারণ, আর মোবাইল ডেটায় ধীর পেজ প্রথম ছবি আসার আগেই কাস্টমার হারায়। হোস্টিং প্রতি বছর রিনিউ করতে হয়, তাই প্রথম বছরের দামের সঙ্গে রিনিউয়ের দামও জেনে নিন।
৪. WordPress-এ নিজে বানালে
WooCommerce নিজে ফ্রি। নিজে বানানো স্টোরেও ওপরের ডোমেইন আর হোস্টিং লাগে, সাধারণত একটা প্রিমিয়াম থিম (Flatsome একবারে $৫৯, Astra Pro প্রথম বছর $৯৯, তারপর $১৪৯) আর কিছু পেইড এক্সটেনশন, যেগুলোর দাম WooCommerce-এর হিসাবে প্রতিটা বছরে $২৯ থেকে $২৯৯। এগুলো ডলারে দিতে হয়, বিদেশে পেমেন্ট করা যায় এমন কার্ড দিয়ে।
আসল খরচ সময়ের: আপডেট, ব্যাকআপ, সিকিউরিটি, আর একটা চেকআউট যেটা সবসময় চালু থাকতে হবে। দোকানে কেউ এই কাজ করতে না চাইলে সেটা হয় মেইনটেন্যান্স প্ল্যান, যার দাম একটা বাংলাদেশি এজেন্সির গাইড অনুযায়ী মাসে ৳২,০০০ থেকে ৳৮,০০০।
৫. Shopify আর বিদেশি বিল্ডার
Shopify-র Basic প্ল্যান আমেরিকায় দেখানো দামে মাসে $২৯ (বছরে একসাথে দিলে) বা মাসে মাসে $৩৯, আর বাংলাদেশে Shopify বিল করে ডলারে। Shopify Payments বাংলাদেশে চালু নেই, তাই অন্য গেটওয়ে দিয়ে কার্ড বা ওয়ালেটের অর্ডারে Basic প্ল্যানে Shopify আলাদা ২% নেয়, গেটওয়ের নিজের চার্জের ওপরে। ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্ডারে Shopify-র কোনো ফি নেই।
Wix-এর ফ্রি প্ল্যানে অর্ডার নেওয়া যায় না। বিক্রি শুরু হয় Core প্ল্যান থেকে; Website Builder Expert-এর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের রিভিউ অনুযায়ী আমেরিকায় বছরে একসাথে দিলে মাসে $২৯। Wix-এর নিজের প্ল্যান পেজ বলে দাম আর মুদ্রা জায়গাভেদে আলাদা, তাই পেমেন্টের আগে আপনাকে দেখানো দামটা দেখে নিন।
৬. প্রথম বছরে মোট কত দাঁড়ায়
এজেন্সির টেমপ্লেট ওয়েবসাইট: বানাতে ৳১২,০০০ থেকে ৳২৫,০০০, .com প্রায় ৳১,৭৫০, হোস্টিং ৳১,০০০ থেকে ৳৬,০০০। মেইনটেন্যান্স ছাড়াই মোটামুটি ৳১৫,০০০ থেকে ৳৩৩,০০০।
ঠিকভাবে বানানো WooCommerce স্টোর: ৳৫০,০০০ থেকে ৳১,০০,০০০, সঙ্গে ডোমেইন, হোস্টিং, গেটওয়ে আর কুরিয়ারের কাজ, আর সাধারণত একটা মেইনটেন্যান্স প্ল্যান। ৳৭৫,০০০ বা তার বেশি ধরে রাখা ভালো।
Shopify Basic: বছরে একসাথে দিলে প্রায় $৩৪৮, ডলারে, সঙ্গে কার্ড আর ওয়ালেট অর্ডারের ২%, আর ফ্রি থিম পছন্দ না হলে একটা থিম।
এর কোনোটাতেই প্রোডাক্টের ছবি তোলা আর আপলোড করা, বা ওয়েবসাইট থেকে আসা মেসেজের উত্তর দেওয়া ধরা নেই। যেটাই বেছে নিন, এগুলোতে প্রতি সপ্তাহে সময় যায়।
৭. কাস্টম ওয়েবসাইট আদৌ লাগবে কি
বেশিরভাগ ফেসবুক শপের ওয়েবসাইট লাগে তিনটা কাজে: পেজ আর Instagram বায়োতে দেওয়ার মতো একটা লিংক, এমন একটা জায়গা যেখানে কাস্টমার জিজ্ঞেস না করেই সব প্রোডাক্ট আর দাম দেখতে পান, আর রাতে কেউ উত্তর না দিলেও অর্ডার করার একটা উপায়। কাস্টম ওয়েবসাইটে টাকা খরচ করা তখনই ঠিক, যখন টেমপ্লেটে হয় না এমন কিছু লাগে — যেমন অনেক বড় ক্যাটালগ আর খুঁটিনাটি ফিল্টার, পাইকারি দাম, বা নিজস্ব ব্র্যান্ডের চেহারা।
ফেসবুক শপ ফ্রি সমাধান নয়: ২০২৩ সালে মেটা যেসব দেশে ফেসবুক বা Instagram পেজে শপ রাখার সুযোগ রেখেছিল, তার তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না। বাংলাদেশি সেলারদের জন্য বানানো ফ্রি ওয়েবসাইট বিল্ডারগুলো একটা উপায়, আর প্রতিটাই কিছু একটা সীমিত করে — প্রোডাক্ট, অর্ডার, বা প্রতিটা বিক্রির একটা ভাগ। ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার নিয়ে আমাদের গাইডে সেই সীমাগুলোর তুলনা আছে।
Sells Pilot-এর প্রতিটা প্ল্যানে, ফ্রি প্ল্যানেও, দোকানের ওয়েবসাইট থাকে। এটা আপনার রাখা ক্যাটালগ থেকেই তৈরি হয়, আপনার Messenger আর Instagram ইনবক্সের একই স্টক থেকে বিক্রি করে, আর এতে প্রোডাক্টের কোনো সীমা নেই, অর্ডারে কোনো কমিশন নেই। ডোমেইন কিনতে হয় না, হোস্টিং রিনিউ করতে হয় না, কিছু ইনস্টল করতে হয় না।
আরও গাইড
- The Ultimate Guide to Meta Conversions API (CAPI) for E-commerce
- অনলাইন শপের ফেসবুক পেজ বায়ো: কী লিখবেন, উদাহরণসহ
- বাংলাদেশি সেলারদের জন্য ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ডার: “ফ্রি”-তে কী থাকে
- বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে গাইড (২০২৬)
- বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া: ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করা যায় এমন ১২টি (২০২৬)